ই-পাসপোর্ট আবেদনপত্র অনলাইনে পূরণের নিয়ম, ফি এবং সুবিধাসমূহ

E-Passport

ঘরে বসেই ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণ করুন অনলাইনে। পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে কার ভালো লাগে? সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে আপনি ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারছেন। নিচে ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ 

ই-পাসপোর্ট কী?

ই-পাসপোর্ট হলো একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে একটি এমবেডেড ইলেকট্রনিক চিপ রয়েছে। এ চিপের মধ্যে রয়েছে বায়োমেট্রিক তথ্য, যা পাসপোর্টধারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ব্যবহার করা হয়। এতে মাইক্রোপ্রসেসর বা চিপ এবং অ্যান্টেনাসহ স্মার্টকার্ড প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে ই-পাসপর্টে যে সকল বায়োমেট্রিক গ্রহন করা হয় তা হলো; ছবি,ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আইরিস। এই সকল প্রক্রিয়া যখন সঠিকভাবে শেষ হয় তখন পাবলিক কী ইনফ্রাষ্ট্রাকচার (পি কে আই) এর মাধ্যমে পাসপোর্টের চিপে যান্ত্রিকভাবে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত তথ্যগুলোর বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করা হয়। ফলে এটিকে নকল করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।

ই-পাসপোর্টের সুবিধাসমুহ

  • ই-পাসপোর্টের তথ্য চুরি বা নকল করা এবং তা কাজে লাগানো প্রায় অসম্ভব।
  • সব তথ্য, স্বাক্ষর, ছবি, চোখের কর্নিয়া ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সুরক্ষিত থাকার কারণে তা জাল করা সম্ভব হয় না।
  • বর্ডার পার হওয়ার সময় যাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত হচ্ছে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে।
  • এয়ারপোর্ট বা বর্ডার পার হওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পরিচয় নির্ণয় হচ্ছে।
  • ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এর মাধ্যমেই ইমিগ্রেশন দ্রুত হয়ে যাবে।
  • ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও।
  • সব ঠিক থাকলে তিনি ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন। কোনো গরমিল থাকলে জ্বলে উঠবে লালবাতি।
  • কারও বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে, সেটিও জানা যাবে সঙ্গে সঙ্গে।

ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম

www.epassport.gov.bd এই ওয়েবসাইটে ঢুকে বামদিকের প্রথম ট্যাব “এ্যাপ্লাই অনলাইন” এ ক্লিক করে আবেদন শুরু করা যাবে।

শুরুতেই জেলা ও বর্তমান ঠিকানার নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশনের নাম দেয়া মাত্রই স্থানীয় পাসপোর্ট অফিসের নাম দেখাবে।

এখানেই ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জমা দিতে হবে এবং এখান থেকেই ই-পাসপোর্টটি সরাসরি হাতে পাওয়া যাবে। 

আবেদনের সময় আবেদনকারীর নাম, জন্ম তারিখ, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, পেশা, জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার, পূর্ববর্তী পাসপোর্টের তথ্য (যদি থাকে), পিতা-মাতার নাম ও পেশা, যোগাযোগ নাম্বার ও জরুরি ক্ষেত্রে যোগাযোগ নাম্বার দিতে হবে। 

পেমেন্ট সেকশনে আবেদন ফি জমা সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করতে হবে।

অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার পর শেষ সেকশনে পাসপোর্ট অফিসের নির্ধারিত দিন থেকে বায়োমেট্রিকের জন্য সাক্ষাতের দিন ঠিক করে নিতে হবে।

অনলাইন আবেদন শেষ হলে পূরণকৃত আবেদন ফর্মটি ও বায়োমেট্রিকের জন্য সাক্ষাতের সময়সহ আবেদনের সামারি ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিতে হবে।

বাচ্চাদের ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম

১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে তার মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) লাগবে।

১৮ বছরের বেশি বয়সী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এনআইডি গ্রহণ সাপেক্ষে এবং ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন গ্রহণ সাপেক্ষে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।

ই-পাসপোর্ট করার খরচ

ই-পাসপোর্ট আবেদন অনলাইনে দাখিল করার সময়ে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করা যাবে।

পাসপোর্ট ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করা হবে। বাংলাদেশস্থ পাসপোর্ট অফিসের আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে অনলাইনে পেমেন্ট করা যাবে।

অনলাইন পেমেন্ট ছাড়াও ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া এবং ঢাকা ব্যাংকে নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া যাবে

আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট ফি

Passport with 48 pages and 5 years validity

*Regular delivery within 21 days: TK 4,025

*Express delivery within 10 days: TK 6,325

*Super Express delivery within 2 days: TK 8,625

Passport with 48 pages and 10 years validity

*Regular delivery within 21 days: TK 5,750

*Express delivery within 10 days: TK 8,050

*Super Express delivery within 2 days: TK 10,350

Passport with 64 pages and 5 years validity

*Regular delivery within 21 days: TK 6,325

*Express delivery within 10 days: TK 8,625

*Super Express delivery within 2 days: TK 12,075

Passport with 64 pages and 10 years validity 

*Regular delivery within 21 days: TK 8,050

*Express delivery within 10 days: TK 10,350

*Super Express delivery within 2 days: TK 13,800

ই-পাসপোর্ট ফরম পূরণের নির্দেশাবলী

১। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইনে পূরণ করা যাবে।

২। ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে কোন কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন হবে না।

৩। ই-পাসপোর্ট ফরমে কোন ছবি সংযোজন এবং তা সত্যায়নের প্রয়োজন হবে না।

৪। জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ অনুযায়ী আবেদন পত্র পূরণ করতে হবে।

৫। অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারি যার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নাই, তার পিতা অথবা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

৬। জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ নম্নোক্ত বয়স অনুসারে দাখিল করতে হবে-

(ক) ১৮ বছরের নিম্নে হলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ।

(খ) ১৮-২০ বছর হলে জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ

(গ) ২০ বছরের উর্ধে হলে জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) আবশ্যক। তবে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন হতে আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ গ্রহণযোগ্য হবে।

৭। তারকা চিহ্নিত ক্রমিক নম্বরগুলো অবশ্যই পূরণীয়।

৮। দত্তক/অভিভাবকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদনের সাথে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত আদেশ দাখিল করতে হবে।

৯। আবেদন বর্তমান ঠিকানা সংশ্লিষ্ঠ বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস/আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস/বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনে দাখিল করতে হবে।

১০। ১৮ বছরের নিম্নের এবং ৬৫ বছরের ‍উর্ধ্বে সকল আবেদনে ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ০৫ বছর এবং ৪৮ পৃষ্ঠার।

১১। প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদসমূহ (যেমন: ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি) আপলোড/সংযোজন করতে হবে।

১২। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক জিও (GO)/এনওসি (NOC)/ প্রত্যয়নপত্র/ অবসরোত্তর ছুটির আদেশ (PRL Order)/ পেনশন বই আপলোড/সংযোজন করতে হবে যা ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নিজ নিজ Website এ আপলোড থাকতে হবে। 

১৩। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ/নিকাহনামা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা দাখিল করতে হবে।

১৪। দেশের অভ্যন্তরে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফি এর উপর নির্ধারিত হারে ভ্যাট (VAT) সহ অন্যান্য চার্জ (যদি থাকে) অতিরিক্ত হিসাবে প্রদেয় হবে। বিদেশে আবেদনের ক্ষেত্রেও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি প্রদেয় হবে।

১৫। কূটনৈতিক পাসপোর্টের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার উইং (Consular and Welfare Wing) অথবা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় বরাবর আবেদনপত্র দাখিল করতে হবে।

১৬। বৈদেশিক মিশন হতে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হলে স্থায়ী ঠিকানার কলামে বাংলাদেশের যোগাযোগের ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।

১৭। অতি জরুরী পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে (নতুন ইস্যু) নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ পূর্বক আবশ্যিকভাবে আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।

১৮। (ক) দেশের অভ্যন্তরে অতি জরুরী পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে ২ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।

(খ) দেশের অভ্যন্তরে জরুরী পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।

(গ) দেশের অভ্যন্তরে রেগুলার পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।

১৯। আবেদনের সময় মূল জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID), অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সনদ, সরকারি আদেশ (GO)/অনাপত্তি (NOC) প্রদর্শন/দাখিল করতে হবে।

২০। পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্ট প্রদশন করতে হবে।

২১। হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল জিডির কপি প্রদর্শন/দাখিল করতে হবে।

২২। ০৬ বছর বয়সের নিম্নের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩ আর (3R Size) সাইজের ( ল্যাব প্রিন্ট গ্রে ব্যাকগ্রউন্ড ) ছবি দাখিল করতে হবে।

২৩। পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অথবা চুরি হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানাতে হবে। নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি, জিডি কপিসহ আবেদন দাখিল করতে হবে।

ই-পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম

পাসপোর্ট আবেদন কি পর্যায়ে আছে তা জানতে প্রথমে ই-পাসপোর্টের ওয়েবসাইটে লগইন করতে হবে।

এরপর ওয়েবসাইটে ঢুকে চেক অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস (check application status) ক্লিক করতে হবে।

এরপরের পেজটিতে গিয়ে পাসপোর্ট আবেদনের সময় পাওয়া স্লিপের অ্যাপ্লিকেশন আইডি অথবা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করার আইডি নম্বরটি চাপতে হবে।