২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন! জীবনের একটি বড় ধাপ তোমরা সফলভাবে পার করেছো। তবে উচ্চমাধ্যমিকে পা রাখার এই মুহূর্তে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর পথচলাতেই আর্থিক সংকট বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের এই স্বপ্নপূরণের সঙ্গী হতে প্রতি বছরের মতো এবারও ডাচ-বাংলা ব্যাংক (DBBL) নিয়ে এসেছে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত “এসএসসি শিক্ষাবৃত্তি ২০২৬”। এটি কেবল একটি আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার এক মজবুত সেতুবন্ধন।

তুমি কি এই বৃত্তির জন্য যোগ্য? কত টাকা পাবে এবং কীভাবে ঘরে বসেই আবেদন করবে? আজকের এই পোস্টে তোমার প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সহজ ভাষায় বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

এক নজরে ডাচ-বাংলা ব্যাংক এসএসসি বৃত্তি ২০২৬

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
বৃত্তির স্তরউচ্চ মাধ্যমিক (HSC / সমমান)
বৃত্তির মেয়াদ২ বছর (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি)
মাসিক বৃত্তির পরিমাণপ্রতি মাসে ২,৫০০/- টাকা
পাঠ্য উপকরণের অনুদানবছরে ২,৫০০/- টাকা (এককালীন)
পোশাক-পরিচ্ছদের অনুদানবছরে ১,০০০/- টাকা (এককালীন)
আবেদনের মাধ্যমসম্পূর্ণ অনলাইন
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটapp.dutchbanglabank.com/DBBLScholarship

DBBL SSC Scholarship

কত টাকা পাবে এবং কত বছর পাবে?

উচ্চমাধ্যমিকের ২ বছর মেয়াদে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার খরচ বহন করতে এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়:

  • মাসিক ভাতা: প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা হারে ২ বছরে মোট ৬০,০০০ টাকা
  • বই ও শিক্ষা উপকরণ অনুদান: প্রতি বছর ২,৫০০ টাকা হারে ২ বছরে মোট ৫,০০০ টাকা
  • পোশাক অনুদান: প্রতি বছর ১,০০০ টাকা হারে ২ বছরে মোট ২,০০০ টাকা
  • সর্বমোট অনুদান: এইচএসসি চলাকালীন ২ বছরে একজন শিক্ষার্থী মোট ৬৭,০০০ টাকা বৃত্তি পাবেন।

তুমি কি আবেদন করতে পারবে? (আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা)

আবেদন করার জন্য ২০২৬ সালের এসএসসি বা দাখিল/সমমান পরীক্ষায় নির্দিষ্ট জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে মনে রাখবে, এখানে জিপিএ হিসাব করা হবে ৪র্থ বিষয় (Optional Subject) বাদে

সকল বিভাগের (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা:

  1. সিটি কর্পোরেশন এলাকার স্কুল/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ন্যূনতম জিপিএ ৫.০০ (৪র্থ বিষয় ছাড়া)
  2. জেলা শহর এলাকার স্কুল/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ন্যূনতম জিপিএ ৫.০০ (৪র্থ বিষয় ছাড়া)
  3. গ্রামীণ / অনগ্রসর অঞ্চলের স্কুল/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ন্যূনতম জিপিএ ৪.৮৩ (৪র্থ বিষয় ছাড়া)

বিশেষ সতর্কবার্তা: আবেদন ফরমে প্রাপ্ত জিপিএ লেখার সময় অবশ্যই চতুর্থ বিষয় বাদ দিয়ে জিপিএ লিখতে হবে। ভুল বা বাড়িয়ে জিপিএ দিলে আবেদনটি যাচাইয়ের প্রাথমিক পর্যায়েই বাতিল হয়ে যাবে।

বৃত্তির বিশেষ নীতিমালা ও কোটা সুবিধা

  • গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার: ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এই বৃত্তির সিংহভাগ অর্থাৎ শতকরা ৯০ ভাগ (৯০%) গ্রামীণ বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের প্রদান করা হবে।
  • মেয়ে শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুযোগ: মোট বৃত্তির শতকরা ৫০ ভাগ (৫০%) বরাদ্দ থাকবে নারী শিক্ষার্থীদের (ছাত্রীদের) জন্য।
  • অন্যান্য বৃত্তির শর্ত: সরকারি সাধারণ বা ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ব্যতীত অন্য কোনো বেসরকারি বা ব্যক্তিগত উৎস থেকে বৃত্তি পেলে তিনি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এই বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবেন না।

আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র লাগবে?

অনলাইনে আবেদন করার সময় কোনো হার্ডকপি পাঠাতে হয় না, তবে নিচের ডকুমেন্টগুলোর স্পষ্ট স্ক্যান কপি বা পরিষ্কার ডিজিটাল ছবি ফাইল আকারে প্রস্তুত রাখতে হবে:

  1. শিক্ষার্থীর ছবি: আবেদনকারীর সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  2. পিতা ও মাতার ছবি: পিতা ও মাতা উভয়েরই পৃথক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  3. একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট / নম্বরপত্র: এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার নম্বরপত্রের স্ক্যান কপি।
  4. প্রশংসাপত্র (Testimonial): সংশ্লিষ্ট স্কুল বা মাদ্রাসা প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রশংসাপত্রের স্ক্যান কপি।

কীভাবে আবেদন করবেন app.dutchbanglabank.com

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তির পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটি অনলাইনেই সম্পন্ন করতে হবে:

  1. প্রথমে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের অফিসিয়াল বৃত্তি পোর্টালে যাও: https://app.dutchbanglabank.com/DBBLScholarship/
  2. হোমপেজে থাকা “Apply for Scholarship” অপশনে ক্লিক করে এসএসসি বৃত্তি ফর্মটি ওপেন করো।
  3. তোমার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, পিতা-মাতার পেশা ও পারিবারিক আয়ের সঠিক তথ্য প্রদান করো।
  4. শিক্ষাগত যোগ্যতার অংশে এসএসসি রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরন (সিটি কর্পোরেশন/জেলা শহর/গ্রাম) নির্বাচন করো এবং চতুর্থ বিষয় বাদে সঠিক জিপিএ ইনপুট দাও।
  5. নির্ধারিত স্থানে আবেদনকারীর ছবি, পিতা-মাতার ছবি, নম্বরপত্র এবং প্রশংসাপত্রের স্ক্যান ফাইল আপলোড করো।
  6. ফর্মটি সাবমিট করার আগে প্রতিটি তথ্য পুনরায় ভালোভাবে মিলিয়ে নাও। সব ঠিক থাকলে Submit বাটনে ক্লিক করো।
  7. আবেদন সফল হলে একটি নিশ্চিতকরণ পেজ ও ট্র্যাকিং নম্বর পাবে। আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করে একটি প্রিন্ট কপি নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রাখো।

এসএসসি শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন লিংক

আবেদনপত্র ও কাগজপত্র কোথায় জমা দিবে?

  • সরাসরি কোনো শাখায় বা কুরিয়ারে আবেদন পাঠানো যাবে না: ডাকযোগে, কুরিয়ারে কিংবা সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে কোনো প্রাথমিক আবেদন গ্রহণ করা হয় না। প্রাথমিক আবেদন কেবল অনলাইনেই করতে হবে।
  • প্রাথমিক নির্বাচনের পর করণীয়: অনলাইনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত প্রার্থীদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তালিকায় নাম আসলে ওয়েবসাইট থেকে ‘Primary Selection Letter’ এবং ‘প্রদত্ত নির্দেশিকা’ প্রিন্ট করতে হবে।
  • কাগজপত্র যাচাই (Verification): প্রিন্ট করা সিলেকশন লেটারসহ সকল মূল কাগজপত্র ও ফটোকপি নিয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের যেকোনো নিকটস্থ শাখা (Branch) অথবা মোবাইল ব্যাংকিং (Rocket) অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে সত্যতা যাচাই করাতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সময়সূচি (Important Dates)

  • অনলাইনে আবেদনের শেষ সময়: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য ব্যাংকের শাখা/রকেট অফিসে উপস্থিতির সময়সীমা: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ: যাচাই-বাছাই শেষে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

তোমার কি আবেদন করা উচিত?

  • তুমি যদি আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান হও এবং নিজের অদম্য পরিশ্রমে উল্লেখিত জিপিএ অর্জন করে থাকো, তবে তোমার অবশ্যই আবেদন করা উচিত।
  • বিশেষ করে তুমি যদি গ্রাম বা মফস্বলের স্কুল/মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হও কিংবা নারী শিক্ষার্থী হও, তবে তোমার বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
  • কোনো ধরনের ভুল বা অসত্য তথ্য না দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সঠিক তথ্য দিয়ে সময় থাকতেই আবেদন সম্পন্ন করে ফেলো।

Posted on: September 17, 2026

Categories: Scholarship