বাংলাদেশ পুলিশ অক্টোবর ২০২৬ মাসে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একটি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এবার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে পুরুষ ও নারী উভয় প্রার্থীকে আবেদন করতে ডাকা হয়েছে। যারা বাংলাদেশ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-এর অধীনে কাজ করতে আগ্রহী, তারা ১৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করুন। আবেদনের নিয়ম, যোগ্যতা, পরীক্ষার তারিখসহ সব তথ্য নিচে সহজ ভাষায় দেওয়া হলো। তাই পুরো পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
Trainee Recruit Constable (TRC) Job Circular
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠান | বাংলাদেশ পুলিশ |
| পদের নাম | ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) |
| আবেদন শুরু | ১৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:০০ টা |
| আবেদনের শেষ সময় | ৩০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৫৯ টা |
| আবেদনের ওয়েবসাইট | http://police.teletalk.com.bd |
| আবেদন ফি | ৬৫ টাকা |
Police Constable Job Circular
১. পদের নাম: ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি)
২. পদসংখ্যা: জেলাভিত্তিক শূন্য পদের বিবরণ বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইট (www.police.gov.bd) এ আপলোড করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে মোট পদসংখ্যা আলাদা করে দেওয়া নেই।
৩. বেতন: ২১,৪০০ – ৫১,৯০০ টাকা। এর সাথে বিধি অনুযায়ী অন্যান্য ভাতাও পাওয়া যাবে।
৪. শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমান (ভোকেশনালসহ)। কমপক্ষে জিপিএ ২.৫ বা সমমান থাকতে হবে।
আবেদনের অন্যান্য যোগ্যতা
বয়সসীমা: ১৮ থেকে ২০ বছর। বয়স হিসাব হবে ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ ধরে। মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
নাগরিকত্ব: বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত হতে হবে। তালাকপ্রাপ্ত বা তালাকপ্রাপ্তা প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না।
শারীরিক মাপ
| বিষয় | পুরুষ প্রার্থী | নারী প্রার্থী |
|---|---|---|
| উচ্চতা (মেধা কোটা) | ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি | ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি |
| উচ্চতা (মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনার সন্তান ও ক্ষুদ্র ন্যূ-গোষ্ঠী কোটা) | ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি | ৫ ফুট ২ ইঞ্চি |
| উচ্চতা (শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ কোটা) | বিধি অনুযায়ী | বিধি অনুযায়ী |
| বুকের মাপ (মেধা ও ক্ষুদ্র ন্যূ-গোষ্ঠী কোটা) | স্বাভাবিক ৩১ ইঞ্চি, সম্প্রসারিত ৩৩ ইঞ্চি | প্রযোজ্য নয় |
| বুকের মাপ (মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান কোটা) | স্বাভাবিক ৩০ ইঞ্চি, সম্প্রসারিত ৩১ ইঞ্চি | প্রযোজ্য নয় |
| ওজন | বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী অনুমোদিত পরিমাণ | বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী অনুমোদিত পরিমাণ |
| দৃষ্টিশক্তি | ৬/৬ | ৬/৬ |
police.teletalk.com.bd কীভাবে আবেদন করবেন
আবেদন পুরোপুরি অনলাইনে হবে। দুটি ধাপে কাজ শেষ করতে হবে।
প্রথম ধাপ: অনলাইনে ফরম পূরণ

- প্রথমে http://police.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে ঢুকুন।
- আবেদন ফরম সঠিকভাবে পূরণ করুন। ফরম পূরণের জন্য ওই সাইটে ভিডিও টিউটোরিয়াল ও নির্দেশিকা আছে। সমস্যা হলে সাইটের Help অপশনও ব্যবহার করতে পারবেন।
- আবেদনপত্রে প্রার্থীর স্বাক্ষর (দৈর্ঘ্য ৩০০ × প্রস্থ ৮০ পিক্সেল) এবং রঙিন ছবি (দৈর্ঘ্য ৩০০ × প্রস্থ ৩০০ পিক্সেল) স্ক্যান করে নির্ধারিত জায়গায় আপলোড করতে হবে।
- ফরমে দেওয়া সব তথ্য পরবর্তী ধাপগুলোতে কাজে লাগবে। তাই সাবমিট করার আগে সব তথ্য ভালো করে মিলিয়ে নিন।
- সাবমিট করার পর আবেদনপত্রের একটি রঙিন প্রিন্ট কপি পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনের জন্য সংরক্ষণ করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: ফি জমা
ফরম পূরণ শেষ হলে একটি User ID পাবেন। ফরম পূরণের পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফি জমা দিতে হবে। না দিলে আবেদন সম্পন্ন হবে না।
পেমেন্ট পদ্ধতি (আবেদন ফি ৬৫ টাকা)
আবেদন ফি ৬৫ টাকা। এর মধ্যে সার্ভিস চার্জ ৬০ টাকা এবং শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ডাটা ভেরিফিকেশন চার্জ (ভ্যাটসহ) ৫ টাকা। ফি শুধু টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল নম্বর থেকে দেওয়া যাবে।
আগে দেখে নিন: আপনার টেলিটক নম্বরে কমপক্ষে ৬৫ টাকা ব্যালেন্স থাকতে হবে।
প্রথম SMS:
TRC<space>User ID
এটি লিখে 16222 নম্বরে পাঠান। উদাহরণ: TRC ABCDEF
উত্তরে আপনি একটি মেসেজ পাবেন, যাতে ফি কাটার কথা এবং ১০ সংখ্যার একটি PIN থাকবে।
দ্বিতীয় SMS:
TRC<space>Yes<space>PIN
এটি লিখে 16222 নম্বরে পাঠান। উদাহরণ: TRC YES 1234567890
সফল হলে একটি কনফার্মেশন মেসেজে আপনার User ID ও Password জানিয়ে দেওয়া হবে। এই দুটি তথ্য সযত্নে রেখে দিন। পরে অ্যাডমিট কার্ড নামানোর সময় লাগবে।
User ID বা PIN হারিয়ে গেলে
শুধু টেলিটক প্রি-পেইড নম্বর থেকে SMS করে এগুলো ফিরে পাওয়া যায়।
- User ID জানা থাকলে:
TRC<space>Help<space>User<space>User IDলিখে 16222 নম্বরে পাঠান। উদাহরণ:TRC Help User ABCDEF - PIN জানা থাকলে:
TRC<space>Help<space>PIN<space>PIN No.লিখে 16222 নম্বরে পাঠান। উদাহরণ:TRC Help PIN 1234567890 - ফরম পূরণে কোনো সমস্যা হলে টেলিটক মোবাইল থেকে ১২১ নম্বরে কল করুন। প্রথমে ৮, তারপর ১ চাপলে এজেন্টের সহায়তা পাবেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়া: কোন ধাপের পর কোন ধাপ
১. প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং: আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাছাই করা হবে। বাছাই হলে প্রার্থীর মোবাইলে SMS যাবে, তাই আবেদনে দেওয়া মোবাইল নম্বর সবসময় চালু রাখুন। SMS-এ পাওয়া User ID ও Password দিয়ে police.teletalk.com.bd সাইটে ঢুকে Admit Card নামিয়ে ২ কপি প্রিন্ট করতে হবে।
২. শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও Physical Endurance Test (PET): বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তারিখ ও সময়ে নিজ জেলার পুলিশ লাইন্সে যেতে হবে। PET-এ এই বিষয়গুলো থাকবে:
- দৌড়
- পুল-আপ
- লং জাম্প
- হাই জাম্প
- ড্রাগিং
- রোপ ক্লাইম্বিং
বাংলাদেশ পুলিশের YouTube চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ এবং www.police.gov.bd ওয়েবসাইটে PET-এর একটি নমুনা ভিডিও আছে। প্রস্তুতির জন্য দেখে নিতে পারেন।
৩. লিখিত পরীক্ষা (মোট ৪৫ নম্বর): PET-এ উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এতে অংশ নেবেন। বিষয় চারটি:
- বাংলা
- ইংরেজি
- সাধারণ গণিত
- সাধারণ বিজ্ঞান
৪. মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা (১৫ নম্বর): লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা এতে অংশ নেবেন।
৫. প্রাথমিক নির্বাচন: জেলাভিত্তিক শূন্য পদের সংখ্যা অনুযায়ী সরকারি কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। কোটাগুলো হলো মেধা, মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান, ক্ষুদ্র ন্যূ-গোষ্ঠী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ। লিখিত এবং মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হবে।
৬. স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন: প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, রাজারবাগ, ঢাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে। এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো:
- নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে পুরস্কৃত চিকিৎসার ইতিবৃত্ত এবং মেডিকেল অফিসার কর্তৃক পরীক্ষিত শারীরিক পরীক্ষার তথ্যসহ Pathological Investigation নিয়ে যেতে হবে।
- অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট মেডিকেল বোর্ডে গ্রহণযোগ্য হবে না।
- মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। একবার অযোগ্য ঘোষিত হলে পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো আবেদন বিবেচিত হবে না।
- স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য হলে প্রার্থীকে পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরমে তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিলে চূড়ান্ত প্রশিক্ষণের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে না।
৭. চূড়ান্ত নির্বাচন: প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগ দেওয়ার পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কমিটি শারীরিক যোগ্যতা ও অন্যান্য তথ্য আবার যাচাই করবে। এরপর চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
লিখিত পরীক্ষার ফি (৫৬ টাকা) জমার নিয়ম
PET-এ উত্তীর্ণ হলে লিখিত পরীক্ষার জন্য আলাদা ফি দিতে হবে।
- ফলাফল প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক প্রি-পেইড নম্বর থেকে ফি জমা দিতে হবে।
- ফি ৫৬ টাকা। ব্যালেন্সে কমপক্ষে ৫৬ টাকা থাকতে হবে।
প্রথম SMS: TRC<space>User ID লিখে 16222 নম্বরে পাঠান।
দ্বিতীয় SMS: TRC<space>Yes<space>PIN লিখে 16222 নম্বরে পাঠান।
সফল হলে SMS-এর User ID ও Password দিয়ে police.teletalk.com.bd সাইট থেকে লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র নামিয়ে ১ কপি প্রিন্ট করতে হবে। প্রবেশপত্রে রোল নম্বর, পদের নাম, ছবি এবং পরীক্ষার তারিখ, সময় ও কেন্দ্রের নাম দেওয়া থাকবে।
পরীক্ষার সময়সূচি (জেলা অনুযায়ী)
প্রার্থীরা নিজ নিজ জেলার পুলিশ লাইন্সে সকাল ৮:০০ টায় শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও PET-এ উপস্থিত থাকবেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সকাল ১০:০০ টায় শুরু হবে।
| জেলার নাম | শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও PET (সকাল ৮টা) | লিখিত পরীক্ষা (সকাল ১০টা) | মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা (সকাল ১০টা) |
|---|---|---|---|
| মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ, জামালপুর, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি, খুলনা | ১৩, ১৪ ও ১৫ নভেম্বর ২০২৬ | ২৫ নভেম্বর ২০২৬ | ০৫ ডিসেম্বর ২০২৬ |
| সাতক্ষীরা, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ঢাকা, লক্ষ্মীপুর, চুয়াডাঙ্গা, বগুড়া, দিনাজপুর, সিলেট, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী | ১৬, ১৭ ও ১৮ নভেম্বর ২০২৬ | ০২ ডিসেম্বর ২০২৬ | ১২ ডিসেম্বর ২০২৬ |
| নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কক্সবাজার, মেহেরপুর, নাটোর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, ফেনী, শেরপুর, ভোলা, বরগুনা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, বান্দরবান | ১৯, ২০ ও ২১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮ ডিসেম্বর ২০২৬ | ১৯ ডিসেম্বর ২০২৬ |
| নোয়াখালী, বাগেরহাট, যশোর, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, মৌলভীবাজার, নরসিংদী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, মাগুরা, পাবনা, রংপুর, পিরোজপুর, বরিশাল | ২২, ২৩ ও ২৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ | ২৬ ডিসেম্বর ২০২৬ |
সতর্কতা: মূল বিজ্ঞপ্তির ছবিটি ছোট হওয়ায় জেলার নামগুলো পড়তে ভুল হতে পারে। পোস্ট প্রকাশের আগে মূল বিজ্ঞপ্তির সাথে একবার মিলিয়ে নেবেন।
PET-এর দিন যে কাগজপত্র সাথে নিতে হবে
শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও PET-এর দিন নিজ জেলার পুলিশ লাইন্সে নিচের কাগজগুলো নিয়ে যেতে হবে।
- Admit Card: ডাউনলোড করা প্রিন্টেড কপি (২ কপি)।
- শিক্ষাগত সনদ: শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র বা সাময়িক সনদপত্রের মূল কপি।
- চারিত্রিক সনদ: সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত মূল কপি।
- নাগরিক সনদ: জেলার স্থায়ী বাসিন্দা বা জাতীয়তার প্রমাণস্বরূপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, পৌরসভার মেয়র বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে নেওয়া স্থায়ী নাগরিকত্বের সনদের মূল কপি।
- অভিভাবকের সম্মতিপত্র: পুলিশের ওয়েবসাইট www.police.gov.bd-এ দেওয়া নমুনা অনুযায়ী।
- জাতীয় পরিচয়পত্র: প্রার্থীর মূল কপি। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে পিতা বা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি।
- ছবি: সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজের সদ্য তোলা রঙিন ছবি ৩ কপি।
কোটার প্রার্থীদের জন্য অতিরিক্ত কাগজ:
- মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান: লাল মুক্তিবার্তায় প্রার্থীর পিতা বা মাতার নাম থাকলে তার সত্যায়িত অনুলিপি। মুক্তিযোদ্ধার নাম ভারতীয় তালিকায় থাকলে ভারতীয় তালিকার সত্যায়িত অনুলিপি। অথবা মুক্তিযোদ্ধার নামে জারিকৃত গেজেটের মূল কপি।
- ক্ষুদ্র ন্যূ-গোষ্ঠী: রাজা বা ক্ষুদ্র ন্যূ-গোষ্ঠী প্রধান অথবা জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্রের মূল কপি।
- শারীরিক প্রতিবন্ধী: সুবর্ণ নাগরিক কার্ড (মূলকপি)।
- তৃতীয় লিঙ্গ: জেলা সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র।
- চাকরিরত প্রার্থী: সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় চাকরিরত হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র।
প্রশিক্ষণ ও চাকরির সুবিধা
প্রশিক্ষণ: চূড়ান্তভাবে বাছাই হওয়া প্রার্থীদের নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৬ মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রার্থীরা ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে এই প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।
প্রশিক্ষণের সময়ের সুবিধা:
- বিনা মূল্যে পোশাক সামগ্রী, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা সুবিধা।
- সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রশিক্ষণ ভাতা।
চাকরির সুবিধা:
- সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করলে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। বেতন হবে ২১,৪০০–৫১,৯০০ টাকা স্কেলে, সাথে বিধি অনুযায়ী অন্যান্য ভাতা।
- নিয়োগের পর দুই বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হলে কনস্টেবল পদে স্থায়ী করা হবে।
- নিয়োগপ্রাপ্তদের শূন্য পদের বিপরীতে যেকোনো জেলা বা ইউনিটে বদলি করা হতে পারে। সেখানে যোগ দিতে তারা বাধ্য থাকবেন।
- নিয়োগপ্রাপ্তরা বিনা মূল্যে পোশাক সামগ্রী, কুঁকি ভাতা ও চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। নিজ ও পরিবারের নির্ধারিত সংখ্যক সদস্যের জন্য প্রাপ্যতা অনুযায়ী পারিবারিক রেশন সামগ্রী স্বল্প মূল্যে দেওয়া হবে।
- প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী উচ্চতর পদে পদোন্নতি এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার সুযোগ আছে।
- শিক্ষানবিশকালে নিয়োগপ্রাপ্তদের অবিবাহিত থাকতে হবে।
আবেদনের আগে অবশ্যই জেনে রাখুন
- আর্থিক লেনদেনের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। নিয়োগে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকলে নিয়োগ বাতিলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- আবেদনপত্রে কোনো মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিলে নিয়োগের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
- যে প্রার্থী পুলিশ বাহিনী, অন্য নিয়মিত বাহিনী বা কোনো সরকারি চাকরি থেকে বহিষ্কৃত, চাকরিচ্যুত বা বরখাস্ত হয়েছেন, তিনি আবেদনের অযোগ্য।
- নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য কোনো প্রকার ভাতা (যাতায়াত ভাতা ইত্যাদি) দেওয়া হবে না।
- শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও PET-এ কোনো প্রকার কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে বা প্রয়োজনীয় সনদপত্র দেখাতে না পারলে প্রার্থিতা বাতিল হবে।
- কর্তৃপক্ষ কারণ না দেখিয়ে যেকোনো প্রার্থীর আবেদন বাতিল করার অধিকার রাখে। নিয়োগ সংক্রান্ত সব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
- কর্তৃপক্ষ নিয়োগযোগ্য পদের সংখ্যা কমাতে বা বাড়াতে পারে।
- মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে কাগজপত্র যাচাইয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে প্রশিক্ষণ থেকে অব্যাহতি বা চাকরিচ্যুতিসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেষ কথা
বাংলাদেশ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-এ আবেদনের জন্য সময় পাওয়া যাবে মাত্র ১৩ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। তাই শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে আগেই ফরম পূরণ করে ৬৫ টাকা ফি জমা দিয়ে দিন। এরপর মোবাইলের SMS দেখতে থাকুন, কারণ অ্যাডমিট কার্ডের সব তথ্য ওখানেই আসবে। পরীক্ষার ফল, অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড ও পরবর্তী সব আপডেট জানতে আমাদের সাইটে নিয়মিত চোখ রাখুন।
Posted on: October 8, 2026
Categories: Job Circular