অবরোহ ও অরোহ অনুমান পরস্পর সম্পর্কযুক্ত – উদাহরণের সাহায্যে যৌক্তিক বিশ্লেষণ

2.81K viewsযুক্তিবিদ্যা
0

অবরোহ ও অরোহ অনুমান পরস্পর সম্পর্কযুক্ত – উদাহরণের সাহায্যে যৌক্তিক বিশ্লেষণ। এইচএসসি যুক্তিবিদ্যা ৭ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ সমাধান।

অবরোহ ও অরোহ অনুমান পরস্পর সম্পর্কযুক্ত - উদাহরণের সাহায্যে যৌক্তিক বিশ্লেষণ

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র, বিষয় কোড: ১২১, অ্যাসাইনমেন্ট নম্বর: ০৫, স্তর: এইচএসসি, পঞ্চম অধ্যায়: অনুমান।

অ্যাসাইনমেন্ট: অবরােহ ও আরােহ অনুমান পরস্পর সম্পর্কযুক্ত উদাহরণের সাহায্যে যৌক্তিক বিশ্লেষণ। 

বিষয়বস্তু

  • ১. অনুমানের ধারণা ও প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • ২. অনুমানের প্রকারভেদ বর্ণনা করতে পারবে।
  • ৩. অবরােহ অনুমানের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • ৪. আরােহ অনুমানের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • ৫. অবরােহ ও আরােহ অনুমানের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে পারবে।
  • ৬. প্রদত্ত যুক্তি থেকে অবরােহ ও আরােহ অনুমান পৃথক করতে পারবে।

নির্দেশনা

  • ক. অনুমানের সংজ্ঞা ও প্রকৃতি সংক্ষেপে বর্ণনা
  • খ. অবরােহ ও আরােহ অনুমানের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে ব্যাখ্যা
  • গ. অবরােহ ও আরােহ অনুমানের পার্থক্য উদাহরণসহ ব্যাখ্যা
  • ঘ. অবরােহ ও আরােহ অনুমানের সাদৃশ্য উদাহরণসহ বিশ্লেষণ
  • ঙ. তােমার মতে অবরােহ ও আরােহ অনুমানের মধ্যে কোনটি মৌলিক? নিজস্ব মতামত যুক্তি দিয়ে ব্যখ্যা

এইচএসসি যুক্তিবিদ্যা ৭ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর

  • অ্যাসাইনমেন্ট এর ক্রমিক নংঃ ৫
  • পত্রঃ ১ম
  • সপ্তাহঃ ৭ম সপ্তাহ
  • শিরোনামঃ অবরোহ ও আরোহ অনুমান পরস্পর সম্পর্কযুক্ত উদাহরণের সাহায্যে যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ।

ক) অনুমানের সংজ্ঞা ও প্রকৃতি উপস্থাপনঃ 

অনুমানের সংজ্ঞা (Definition of Inference)

অনুমানের ইংরেজি প্রতিশব্দ Inference উদ্ভুত হয়েছে ল্যটিন শব্দ Inference থেকে। Inference শব্দের অর্থ হলো bring in বা উপস্থাপন করা। কোনো বিষয়ের আলোকে কোনো বিষয় উপস্থাপন করা। আরো পরিষ্কারভাবে, কোনো জানা বিষয়ের আলোকে কোনো অজানা বিষয় উপস্থাপন করা। (সকল এসাইনমেন্ট সমাধান সবচেয়ে দ্রুত পেতে ভিজিট করুন NewResultBD.Com) অনেক ক্ষেত্রে (inference) এর মানে হলো কোনো প্রমাণের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ; a conclusion reached on the basis of evidence.. এখানে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, অনুমান হলো পুরোপুরি একটি মানসিক প্রক্রিয়া এবং অনুমান যখন ভাষায় প্রকাশ করা হয় তখন তা হয়ে যায় যুক্তি। যুক্তিবিদ্যায় একাধিক অর্থে অনুমানকে ব্যবহার করা হয়।

১) আমাদের জানা বিষয় থেকে বা সত্য বলে গৃহীত আশ্রয়বাক্য থেকে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রতিপাদনের প্রক্রিয়া হলো অনুমান।

২) মানসিক প্রক্রিয়ার ফলাফল বা সিদ্ধান্ত হলো অনুমান।

৩) বাস্তব জ্ঞান বা সাক্ষ্য প্রমাণ থেকে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রতিপাদন করাই হলো অনুমান।

৪) প্রত্যক্ষণ ছাড়া যথার্থ প্রমাণ ও পূর্ব স্বীকৃত সিদ্ধান্ত থেকে নতুন সিদ্ধান্ত বা যৌক্তিক অবধারণ গঠন করার প্রক্রিয়া হলো অনুমান।

যুক্তিবিদ্যায় সাধারণত জানা বিষয় থেকে অজানা বিষয়ে উত্তরণের মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান বলে। আমরা নিন্মে কয়েকজন বিখ্যাত যুক্তিবিদ কর্তৃক প্রদত্ত অনুমানের সংজ্ঞা তুলে ধরছি। যুক্তিবিদ এইচ.ডব্লিউ.বি. যোসেফ (H.W.B.

Joseph) বলেন, অনুমান হলো একটা চিন্তন প্রক্রিয়া যা এক বা একাধিক অবধারণ থেকে অন্য একটা অবধারণে উপণীত হয়, যার সত্যতা পূর্ববর্তী অবধারণের সত্যতার সাথে সম্পৃক্ত বলে বোঝা যায়। ((Inference is a Process of thought which, starting with one or more judgements, ends in another judgement made necessary by the former) 

অনুমানের প্রকৃতি (Nature of Inference) 

অনুমানের সাহায্যে আমরা জানা বিষয় থেকে অজানা বিষয় সম্পর্কে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এক্ষেত্রে আমরা অবধারণ বা বচন ব্যবহার করি। অর্থাৎ এক বা একাধিক বচনের ভিত্তিতে নতুন বিষয় সম্পর্কে একটি বচন প্রতিষ্ঠা করি। এর মানে হলো অনুমানের দু’টি অংশ থাকে।

প্রথম অংশে থাকে প্রত্যক্ষিত বিষয় যা জানা তথ্য হিসেবে কাজ করে এবং দ্বিতীয় অংশে থাকে অপ্রত্যক্ষিত বিষয় বা নতুন তথ্য যা অজ্ঞাত বিষয় হিসেবে কাজ করে। যেমন:

১. পাহাড়ে ধোঁয়া দেখা যায়,

২. যেখানে ধোঁয়া দেখা যায় সেখানে আগুন থাকে,অতএব 

৩. পাহাড়ে আগুন আছে

এখানে অনুমানের একটি অংশ যার উপর নির্ভর করে বা যে সকল জানা বচন বা অবধারণকে আশ্রয় করে একটি নতুন বচন প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং অন্য অংশটি হলো ঐ সকল জানা বচনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত অজ্ঞাত বা নতুন বচন। যুক্তিবিদ্যায় এ দু’টি অংশের দু’টি নাম রয়েছে। যে বচনগুলির ভিত্তিতে অজ্ঞাত তথ্য প্রতিষ্ঠা করা হয় তার নাম নাম আশ্রয়বাক্য এবং যে নতুন বচনটি প্রতিষ্ঠা করা হয় তার নাম সিদ্ধান্ত। প্রদত্ত অনুমানটিতে ‘পাহাড়ে ধোঁয়া দেখা যায়’ এবং ‘যেখানে ধোঁয়া দেখা যায় যেখানে আগুন থাকে’ বচন দু’টি হলো আশ্রয় বাক্য এবং ‘পাহাড়ে আগুন আছে’ বচনটি হলো সিদ্ধান্ত।(সকল এসাইনমেন্ট সমাধান সবচেয়ে দ্রুত পেতে ভিজিট করুন NewResultBD.Com)একটি অনুমানে একটি আশ্রয়বাক্য থাকতে পারে, আবার একাধিক আশ্রয়বাক্যও থাকতে পারে। কিন্তু একটি অনুমানে একটি মাত্র সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। অনুমানের প্রকৃতি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে, আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক থাকতে হবে। আবার একাধিক আশ্রয়বাক্য হলে সেগুলোর মধ্যেও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক থাকতে হবে এবং সে সম্পর্কের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

খ) অবরোহ ও আরোহ অনুমানের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে ব্যাখ্যাঃ

অবরোহ অনুমান (Deductive Inference)

যে অনুমান পদ্ধতিতে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে আশ্রয়বাক্যের তুলনায় কম ব্যাপক সিদ্ধান্ত নি:সৃত হয় তাকে অবরোহ অনুমান বলে। যেমন:

১) সকল কাক হয় কালো (A)

২) কিছু কালো পাখি হয় কাক (I)

এ উদাহরণটিতে আশ্রয় বাক্যটি সার্বিক এবং সিদ্ধান্তটি বিশেষ বাক্য। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আশ্রয় বাক্যের তুলনায় কম ব্যাপক।

১) কোনো মানুষ নয় দেবতা (E)

২) কোনো দেবতা নয় মানুষ (E)

এ অনুমানটিতে সিদ্ধান্তটি আশ্রয় বাক্যের সমান ব্যাপক।

১) সকল ভাবুক হয় কবি (A)

২) সকল প্রকৃতি-প্রেমিক হয় ভাবুক (A)

 ৩) সকল প্রকৃতি-প্রেমিক হয় কবি (A)

এ অনুমানটিতে দু’টি আশ্রয়বাক্য রয়েছে এবং আশ্রয়বাক্য দু’টির মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তিতে অনিবার্যভাবে সিদ্ধান্তটি নি:সৃত হয়েছে। এখানে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যগুলোর সমব্যাপক।

অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তের সত্যতা আশ্রয়বাক্যের সত্যতা দ্বারা নির্ধারিত হয়। এরূপ অনুমানে যে কোনো আশ্রয়বাক্য বস্তুগতভাবে মিথ্যা হলে সিদ্ধান্ত অবশ্যই 1) বস্তুগতভাবে মিথ্যা হবে। যেমনসকল মানুষ হয় শিক্ষিত (A)

2) সকল শ্রমিক হয় মানুষ (A)

 3) সকল শ্রমিক হয় শিক্ষিত (A)

আরোহ অনুমান (Inductive Syllogism) 

যে অনুমান পদ্ধতিতে কয়েকটি বিশিষ্ট দৃষ্টান্তের উপর নির্ভর উপর নির্ভর করে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ভিত্তিতে আরোহাত্মক উল্লম্ফনের মাধ্যমে একটি সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে আরোহ অনুমান বলে। তবে এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নি:সৃত হয় না। আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি সম্ভাব্য হয় মাত্র। যেমন:

রহিম হয় মরণশীল

করিম হয় মরণশীল

খালেক হয় মরণশীল

মালেক হয় মরণশীল

এখানে কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের আলোকে কার্যকারণ নিয়ম ও প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি অনুসরণ করে আরোহাত্মক উল্লম্ফনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।(সকল এসাইনমেন্ট সমাধান সবচেয়ে দ্রুত পেতে ভিজিট করুন NewResultBD.Com)তবে আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তহিসেবে বিশিষ্ট বাক্যও প্রতিষ্ঠা করা যায়। যুক্তিবিদ্যায় বিশিষ্ট বাক্যকে সার্বিক বাক্য বলেই গ্রহণ করা হয়। যেমন- পৃথিবী ও মঙ্গল সূর্যের দু’টি গ্রহ এবং সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে। গ্রহ দু’টি সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়। পৃথিবী ও মঙ্গলের আবহাওয়া ও ভূমি এক। পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। অতএব, মঙ্গলেও প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে।

গ) পার্থক্য ব্যাখ্যা করণঃ

অবরোহ ও আরোহ অনুমানের মধ্যে পার্থক্য (Difference between Dedtctive and Inductive Inference)

অবরোহ ও আরোহ অনুমানের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য থাকলেও এদের মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি। অবরোহ ও আরোহ অনুমানের মধ্যে যেসব পার্থক্য দেখা যায় সেগুলো হলো :

১. অবরোহ অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে সিদ্ধান্ত নি:সৃত হয়। কিন্তু আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্য সর্বদাই একাধিক থাকে এবং সিদ্ধান্তটি কখনো আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নি:সৃত হয় না। একটি মাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত গঠন করা যায় না।

২. অবরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নি:সৃত হয় বলে এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তে আশ্রয়বাক্যের অতিরিক্ত কিছু বলা হয় না। কিন্তু আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তে আশ্রয়বাক্যে যা বলা থাকে না সে বিষয়েও নতুন কিছু বলা হয়।

৩. অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত কোনো আশ্রয়বাক্যের তুলনায় ব্যাপকতর হতে পারে না। কিন্তু আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সাধারণত আশ্রয়বাক্যের তুলনায় ব্যাপকতর হয়।

৪. অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত বিশেষ বাক্য হতে পারে। কিন্তু আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত বিশেষ বাক্য হতে পারেনা, সব সময়ই সার্বিক বাক্য হয়ে থাকে।

৫. অবরোহ অনুমানের আশ্রয়বাক্যগুলোর বস্তুগত সত্যতা পরীক্ষা না করেই গ্রহণ করা হয় বলে অবরোহ অনুমানের আশ্রয়বাক্য মিথ্যা হতে পারে। কিন্তু আরোহ অনুমানের আশ্রয় বাক্যগুলো অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বস্তুগত পরীক্ষা করে গ্রহণ করা হয় বলে আরোহ অনুমানের আশ্রয়বাক্য কখনো মিথ্যা হতে পারে না।

৬. অবরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে কেবল আকারগত সত্যতার দিকে লক্ষ্য রাখা হয়। অর্থাৎ আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অনুমানের সংশ্লিষ্ট নিয়মসমূহ অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত পাওয়া গেছে কি-না, (সকল এসাইনমেন্ট সমাধান সবচেয়ে দ্রুত পেতে ভিজিট করুন NewResultBD.Com) তা বিচার করা হয়। আশ্রয় বাক্যগুলোর বস্তুগত সত্যতা রয়েছে কি-না সেদিকে লক্ষ্য রাখার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে আরোহ অনুমানের দৃষ্টান্তগুলো বাস্তব সত্যতা পরীক্ষা করেই গ্রহণ করা হয়। ফলে আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে আকারগত ও বস্তুগত উভয় প্রকার সত্যতার দিকেই খেয়াল রাখা হয়।

৭. অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সর্বদাই নিশ্চিত হয়। কিন্তু আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সর্বদাই সম্ভাব্য হয়।

৮. অবরোহ যুক্তি হয় বৈধ হয়, না হয় অবৈধ হয়; এক্ষেত্রে বৈধতার কোনো মাত্রা নেই। কিন্তু আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হয় বলে কখনো সম্ভাব্যতা বেশি হতে পারে, আবার কখনো কম হতে পারে।

৯. অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয় বাক্য থেকে নি:সৃত হয়; কিন্তু আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের ভিত্তিতে অনুমিত হয়।

১০. অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নি:সৃত হয় বলে যেক্ষেত্রে সকল আশ্রয়বাক্য সত্য সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটিও সত্য হয় এবং এ রকম ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত কখনো মিথ্যা হতে পারে না। কিন্তু আরোহ অনুমানের

সিদ্ধান্তটি যেহেতু আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নি:সৃত হয় না, সেহেতু সকল আশ্রয়বাক্য সত্য থাকা সত্তেও আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তটি মিথ্যা হতে পারে।

ঘ) সাদৃশ্য বিশ্লেষণঃ

অবরোহ ও আরোহ অনুমানের সাদৃশ্য (Similarities between Deductive and Inductive Inference):

অবরোহ ও আরোহ অনুমানের মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায় এই দুই ধরনের অনুমানের মধ্যে কয়েকটি দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে। সাদৃশ্যগুলো হলো :

১. অবরোহ ও আরোহ উভয় প্রকার অনুমানেই জানা বিষয় থেকে অজানা বিষয়ে উত্তরণের চেষ্টা করা হয়।

২. অবরোহ ও আরোহ উভয়ই মানসিক প্রক্রিয়া।

৩. অবরোহ ও আরোহ উভয় প্রকার অনুমানেরই লক্ষ্য হলো যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে সত্য সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা।

ঙ) নিজস্ব মতামতঃ

অবরোহ ও অরোহ অনুমানের সম্বন্ধ বিচারের ক্ষেত্রে যুক্তিবিদ ও দার্শনিকদের মধ্যে মত পার্থক্য দেখা যায়। এ বিষয়ে নিম্নোক্ত মতগুলো পাওয়া যায় :

১. অনুমানের মূল প্রক্রিয়া হলো অবরোহ 

২. অরোহ হচ্ছে অনুমানের মূল পদ্ধতি। 

৩, অবরোহ ও অরোহ হলো পরস্পর বিপরীত প্রক্রিয়া 

৪. অবরোহ ও অরোহ অনুমান একে অপরের পরিপূরক।

নিম্নে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো। 

১. অনুমানের মূল প্রক্রিয়া হলো অবরোহ:

যুক্তিবিদ উইলিয়াম স্টারলিং হ্যামিলটন (William Stirling Hamilton), হেনরি ম্যানসেল (Henry Mansel), গচার্ড হোয়েটলি (Richard Whately), উইলিয়াম স্ট্যালি জেভন্স (William Stanley JeVons ), প্যাট্রিক সাপ্পেস(Patrick Suppes ) প্রমুখ যুক্তিবিদ মনে করেন যে, অবরোহই হলো অনুমানের মৌলিক প্রক্রিয়া। জেন্স বলেন যে, একমাত্র অবরোহ অনুমানই মূল অনুমান পদ্ধতি এবং তা অরোহ অনুমানের পূর্বগামী। অরোহ অনুমানের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ সত্য প্রতিষ্ঠা করা। কোনো সাধারণ সত্যে উপনীত হতে হলে প্রথমে তা কল্পনারূপে বা প্রকল্প আকারে আমাদের মনে উদিত হয়। তারপর সে কল্পনাটিকে বাস্তবে রূপদান করার জন্য কতগুলো বিশেষ ক্ষেত্র বা ঘটনার পর্যবেক্ষণ করতে হয়। অর্থাৎ কোনো সাধারণ সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য তার কল্পানা বা ধারণাকে বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হয় এবং এ প্রয়োগ ক্রিয়াকেই বলা হয় অবরোহ প্রক্রিয়া। অবরোহ অনুমানে আমরা যে সাধারণ সত্য থেকে বিশেষ সত্যে উপনীত হই সে সাধারণ সত্যটি কেবল অরোহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পাওয়া যায়। অধিকন্তু যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) মনে করেন যে, অবরোহ অনুমান যথার্থ অনুমান বলে গণ্য হতে পারে না। কারণ অবরোহের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের মধ্যেই নিহিত থাকে, তা কোন নতুন তথ্য প্রকাশ করতে পারে না। প্রকৃত অনুমান বলতে অরোহ অনুমানকেই বুঝায়।

৩. অবরোহ ও অরোহ হলো পরস্পর বিপরীত প্রক্রিয়া : 

ফ্রান্সিস বেকন (Francis Bacon), থমাস ফাউলার (Thomas Fowler) প্রমুখ যুক্তিবিদ মনে করেন যে, অবরোহ ও অরোহ হলো পরস্পর বিপরীত প্রক্রিয়া || অবরোহ প্রক্রিয়ায় সাধারণ থেকে বিশেষ সত্যের দিকে এবং জ্ঞারোহ প্রক্রিয়ায় বিশেষ বিশেষ সত্য থেকে সাধারণ সত্যের দিকে গমন করতে হয়। ফ্রান্সিস। বেকন (Francis Bacon অবরোহ অনুমানকে অবতরণ প্রক্রিয়া (descending process) এবং অরোহ অনুমানকে অরোহণ প্রক্রিয়া (ascending process) বলে বর্ণনা করেছেন। থমাস ফাউলার (Thomas Fowler) বলেন, অবরোহ অনুমান কারণ থেকে কার্যের দিকে যায় এবং অরোহ অনুমান অবরোহ অনুমানের বিপরীত প্রক্রিয়া।

Get HSC Logic Assignment Answer

এসাইনমেন্ট সমাধান বা যেকোনো প্রয়োজনে-

Changed status to publish
Add a Comment
Write your answer.