মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর বিদায় হজের ভাষণে উদার ধর্মীয়, মানবতাবাদী চেতনা ও সমাজ জীবনে প্রতিফলনের উপায়সমূহের

6.35K viewsইসলাম
0

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর বিদায় হজের ভাষণে উদার ধর্মীয়, মানবতাবাদী চেতনা ও সমাজ জীবনে প্রতিফলনের উপায়সমূহের প্রতিবেদন প্রণয়ন করো। এইচএসসি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ৭ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ সমাধান।

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর বিদায় হজের ভাষণে উদার ধর্মীয়, মানবতাবাদী চেতনা ও সমাজ জীবনে প্রতিফলনের উপায়সমূহের

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, বিষয় কোড:২৬৭, স্তর: এইচএসসি, অ্যাসাইনমেন্ট নম্বর: ০৫, দ্বিতীয় অধ্যায়: হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)।

অ্যাসাইনমেন্ট: মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর বিদায় হজের ভাষণে উদার ধর্মীয়, মানবতাবাদী চেতনা ও সমাজ সংস্কার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলনের উপায়সমূহের বর্ণনামূলক প্রতিবেদন প্রণয়ন করাে।

বিষয়বস্তু

  • ১. বিদায় হজের ভাষণের উদার, মানবতাবাদী চেতনা ও সমাজ সংস্কারের বিষয়াবলি বর্ণনা করতে পারবে এবং নিজ ও সমাজ জীবনে সেসবের প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে।

নির্দেশনা

  • ক) বিদায় হজের ভাষণের পটভূমি ব্যাখ্যা।
  • খ) বিদায় হজের ভাষণের ধর্মীয় উপদেশাবলি বিশ্লেষণ।
  • গ) বিদায় হজের ভাষণের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে পালনীয় বিষয়াবলির পর্যালােচনা।
  • ঘ) বিদায় হজের ভাষণের আর্থ-সামাজিক উপদেশগুলাে জীবনে প্রতিফলনের উপায়সমূহ।

এইচএসসি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ৭ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর

ক) বিদায় হজের ভাষণ এর পটভূমি:

মদিনায় দলে দলে বিভিন্ন গোত্রের দূত দল আসতে আরম্ভ করলে হযরত মুহাম্মদ (সা.) বুঝতে পারেন, তাঁর জীবনের মহান কর্তব্য শেষ হয়েছে এবং তাঁর জীবন প্রদীপ ফুরিয়ে আসছে। তাই শেষ হজ্জ বা ‘হাজ্জাতুল বিদা’ (বিদায় হজ্জ) পালনের উদ্দেশ্যে ১৫ যিলকদ, ১০ হিজরী, ১৩ জানুয়ারি ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে তিনি এক লক্ষের অধিক সাহাবী সহকারে মক্কার পথে রওয়ানা হন। ৬৩১ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিকে সূরা বারায়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর তিনি আরবের সকল গোত্রকে ইসলাম গ্রহণের জন্য চার মাস সময় প্রদান করে বলেন, এ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো প্রকার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না। এর ফলে পর বছর ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.) হজ্জ উপলক্ষে লক্ষাধিক মুসলিমসহ মক্কায় গমন করতে সক্ষম হন। [NewResultBD.Com] বিদায় হজ্জ পালনে হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর সহধর্মিণীদের সঙ্গে নিয়ে যান। এ সময় কুরবানির জন্য তাঁর সাথে ১০০ উট ছিল। যাত্রার ১৫ দিন পর হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কার ৬ মাইল দূরে ‘যুল হুলাইফা’ নামক স্থানে পৌঁছেন এবং সেখান থেকে হজ্জের পোশাক বা ইহরাম পরিধান করে মক্কায় প্রবেশ করেন। কাবা গৃহের চতুর্দিকে সাত বার প্রদক্ষিণ করে তিনি মাকামে ইবরাহীম নামক স্থানে সালাত আদায় করেন। সাফা এবং মারওয়া পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে সাত বার দৌড়ান। যিলহজ্জের অষ্টম দিনে আরাফার ময়দানে পৌঁছেন। হজ্জ সম্পন্ন করে আল্লাহর রাসূল (রা.) আরাফাতের জাবালে রহমত পর্বত শিখরে দাঁড়িয়ে উপস্থিত মুসলিমদের উদ্দেশ্যে এক অবিস্মরণীয় ভাষণ প্রদান করেন। তাঁর এ শেষ উপদেশমূলক ভাষণ মুসলিমদের হৃদয়ে চির সমুজ্জ্বল হয়ে থাকবে। বিদায় হজ্জের ভাষণকে ইতিহাসে প্রধান মানবাধিকার সনদ বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

খ) বিদায় হজের ভাষণ এর ধর্মীয় উপদেশ সমূহঃ

হে মুসলিমগণ! মনোযোগ সহকারে আমার কথা শোন। কারণ আবার তোমাদের সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ আল্লাহ। আমাকে নাও দিতে পারেন। এ দিন, এ মাস, সকলের জন্য যেরূপ পবিত্র, সেরূপ তোমাদের জীবন ও সম্পদ মহা প্রভুর সাথে সাক্ষাতের পূর্ব পর্যন্ত পরস্পরের নিকট পবিত্র ও হস্তক্ষেপের অনুপযুক্ত। স্মরণ রেখো, দুনিয়ার প্রত্যেক কাজের জন্য একদিন আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হয়ে তোমাদের জবাবদিহি করতে হবে। তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার করো না, অন্যের দ্রব্য আত্মসাৎ ও অন্যায়ভাবে নরহত্যা করো না এবং

কখনো ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ো না। পথপ্রদর্শক হিসেবে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কালাম (কুরআন মাজীদ) ও তাঁর প্রেরিত সত্যবাহক রাসূলের চরিত্রাদর্শ (হাদীস) রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এ দুটির অনুশাসন মেনে চলবে ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না। হে আমার উম্মতগণ, যারা এখানে সমবেত হয়েছ, তারা অনুপস্থিত মুসলিমদের কাছে আমার কথা পৌঁছে দেবে। যারা অনুপস্থিত তাদের আমার উপদেশের কথা জানাবে। কখনো কখনো উপস্থিত ব্যক্তিদের চেয়ে অনুপস্থিত ব্যক্তিরা অধিক স্মরণ রাখতে সক্ষম হয়।

খ) বিদায় হজের ভাষণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে পালনীয় বিষয় সমূহের প্রতি নির্দেশনাঃ

হে প্রিয় সাহাবীগণ! তোমাদের সহধর্মিণীদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার আছে, তোমাদের ওপরও তাদের তেমন অধিকার রয়েছে। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমরা তাদের গ্রহণ করেছে এবং তাঁরই আদেশমত তাদের তোমাদের জন্য বৈধ করে নিয়েছে। সুতরাং তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে। [NewResultBD.Com] দাস-দাসীদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করবে। তোমরা যা আহার কর, যে বস্ত্র পরিধান কর, তাদের অনুরূপ খাদ্য-বস্ত্র দান করবে। তারা যদি ক্ষমার অযোগ্য কোনো আচরণ করে, তা হলেও তাদের মুক্তি দান করবে। স্মরণ রেখো, তারা আল্লাহর সৃষ্টি এবং তোমাদেরই মতো মানুষ।

গ) বিদায় হজের ভাষণে আর্থসামাজিক উপদেশগুলো প্রতিফলনঃ

যেভাবে আমরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর বিদায় হজ্জের ভাষণ থেকে আর্থসামাজিক বিষয়গুলো নিজেদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারি তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো,

আমরা সর্বদা অন্যের আমানত হিফাযত কর এবং পাপ কাজ থেকে বিরত থাকবো।

 সব সময় সুদ গ্রহণ এবং প্রদান থেকে বিরত থাকব। ঋণগ্রহীতা থেকে কেবল আসল অর্থ ফেরত নেবে। কুসংস্কারাচ্ছন্ন আরব জাতির ‘খুনকা বদলা খুন’ নীতি থেকে দূরে থাকবো।

 আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। আমরা প্রত্যেক মুসলমান ভাই ভাই। ভাই এবং সমগ্র দুনিয়ার মুসলিম একই ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে, একই অবিচ্ছেদ্য জাতিসত্তায় আবদ্ধ। অনুমতি ব্যতীত কেউ কারো কোনো জিনিস জোর করে নিতে পারবে না।

অঞ্চল ও বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলিম সমান মনে করব। বংশগত কৌলীণ্য প্রথা হওয়ার কোন সুযোগ দেব না এবং নিজেরা করার চেষ্টা করব না। সেই আমাদের মধ্যে সবচেয়ে কুলীন, যে স্বীয় কর্মে বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে আগ্রহী।

Get HSC Islamic History and Culture Assignment Answer

এসাইনমেন্ট সমাধান বা যেকোনো প্রয়োজনে-

Asif Changed status to publish September 9, 2021
Add a Comment
Write your answer.