বঙ্গভঙ্গের প্রয়োজনীয়তা ও এর পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া এবং ভারতে বৃটিশ শাসনামলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশ্লেষণ।

0

বঙ্গভঙ্গের প্রয়োজনীয়তা ও এর পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া এবং ভারতে বৃটিশ শাসনামলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশ্লেষণ। এইচএসসি ইতিহাস প্রথম পত্র চতুর্থ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ সমাধান।HSC History 4th Week Assignment 2021

অ্যাসাইনমেন্ট: বঙ্গভঙ্গের প্রয়ােজনীয়তা ও এর পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া এবং ভারতে বৃটিশ শাসনামলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশ্লেষণ।

শিখনফল/বিষয়বস্তু

  • ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতবর্ষে বঙ্গভঙ্গের প্রয়ােজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারবে;
  • বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ও বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করতে পারবে;
  • ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও এর রাজনৈতিক কর্মসূচী ব্যাখ্যা করতে পারবে;
  • মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার পটভূমি এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে;

নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি)

  • বঙ্গভঙ্গের প্রয়ােজনীয়তা ব্যাখ্যা করা;
  • বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ও বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও এর রাজনৈতিক কর্মসূচী ব্যাখ্যা;
  • মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার পটভূমি এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ;

এইচএসসি ইতিহাস চতুর্থ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ সমাধান

বঙ্গভঙ্গের প্রয়োজনীয়তা ও এর পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া এবং ভারতে বৃটিশ শাসনামলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশ্লেষণ। বঙ্গভঙ্গের প্রয়োজনীয়তা ও এর পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া এবং ভারতে বৃটিশ শাসনামলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশ্লেষণ।

বঙ্গভঙ্গের প্রয়োজনীয়তা ও এর পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া এবং ভারতে বৃটিশ শাসনামলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশ্লেষণ। বঙ্গভঙ্গের প্রয়োজনীয়তা ও এর পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া এবং ভারতে বৃটিশ শাসনামলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশ্লেষণ।

বঙ্গভঙ্গের প্রয়োজনীয়তা ও এর পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া এবং ভারতে বৃটিশ শাসনামলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশ্লেষণ। বঙ্গভঙ্গের প্রয়োজনীয়তা ও এর পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া এবং ভারতে বৃটিশ শাসনামলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশ্লেষণ।

বঙ্গভঙ্গের প্রয়োজনীয়তা ও এর পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া এবং ভারতে বৃটিশ শাসনামলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশ্লেষণ।Get HSC History Assignment Answer

এসাইনমেন্ট সমাধান বা যেকোনো প্রয়োজনে-

Read More About HSC History 4th Week Assignment Answer

বঙ্গভঙ্গের প্রয়োজনীয়তা ও এর পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া এবং ভারতে বৃটিশ শাসনামলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশ্লেষণ।

ক) বঙ্গভঙ্গের প্রয়োজনীয়তা:

বঙ্গ বিভাগ লর্ড কার্জনের রাজত্বকালের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। প্রশাসনিক অসুবিধার কথা চিন্তা করে ১৯০৫ সালে তিনি সমগ্র বঙ্গদেশকে অর্থাৎ বাংলা প্রেসিডেন্সিকে দুটি প্রদেশে বিভক্ত করেন। তাঁর পূর্বে বঙ্গ, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্য প্রদেশ ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে বাংলা প্রেসিডেন্সি গঠিত ছিল। এ বিশাল প্রদেশের শাসন ন্যস্ত ছিল একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর বা ছোটলাটের ওপর। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধাহেতু এত বড় প্রদেশের শাসনভার একজনের পক্ষে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল। কারণ রাজধানী কলকাতা থেকে সুদূর পূর্বাঞ্চলের প্রশাসন ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কিংবা জনসাধারণের সুখ-দুঃখের প্রতি দৃষ্টি রাখা একরূপ অসম্ভব ব্যাপার ছিল। সেজন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বঙ্গ বিভাগের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা: সুমিত সরকারের মতে, ১৯০৩ সাল পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গের পেছনে সরকারের প্রশাসনিক ইচ্ছাই অধিক কাজ করেছে। মূলত নতুন প্রদেশ গঠনের পেছনে প্রশাসনিক সুবিধা ও দক্ষতা বৃদ্ধিই ছিল কার্জনের মূল উদ্দেশ্য। ইংরেজ শাসনের শুরু থেকেই সমগ্র বাংলার শাসনব্যবস্থা ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যাতায়াত সমস্যা এবং প্রদেশের অন্তর্গত প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হওয়ায় পূর্ববাংলার বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত ছিল। এ অবস্থা শুরু হয় সুদূর অতীতে, যখন মুর্শিদকুলী খান ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে বাংলার রাজধানী স্থানান্তর করেন। ফলে ভ‚স্বামী, ব্যবসায়ী ও রাজধানীর ওপর নির্ভরশীল গোষ্ঠী ঢাকা ছেড়ে সেখানে গমন করে। কালক্রমে তারাই কলকাতায় প্রভাব বিস্তার করে। কারণ, ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার পর মুর্শিদাবাদ থেকে শাসনযন্ত্র কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়।স্বাভাবিকভাবেই পূর্ববাংলা অবহেলিত থাকে। পূর্ববাংলার প্রশাসন ব্যবস্থা ছিল দুর্বল, অদক্ষ এবং সে কারণে কার্যকর ও সক্রিয় ছিল না। জনকল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য যে অর্থ এ এলাকায় ব্যয় করা হতো, তা ছিল বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা: সুমিত সরকারের মতে, ১৯০৩ সাল পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গের পেছনে সরকারের প্রশাসনিক ইচ্ছাই অধিক কাজ করেছে। মূলত নতুন প্রদেশ গঠনের পেছনে প্রশাসনিক সুবিধা ও দক্ষতা বৃদ্ধিই ছিল কার্জনের মূল উদ্দেশ্য। ইংরেজ শাসনের শুরু থেকেই সমগ্র বাংলার শাসনব্যবস্থা ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যাতায়াত সমস্যা এবং প্রদেশের অন্তর্গত প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হওয়ায় পূর্ববাংলার বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত ছিল। এ অবস্থা শুরু হয় সুদূর অতীতে, যখন মুর্শিদকুলী খান ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে বাংলার রাজধানী স্থানান্তর করেন। ফলে ভ‚স্বামী, ব্যবসায়ী ও রাজধানীর ওপর নির্ভরশীল গোষ্ঠী ঢাকা ছেড়ে সেখানে গমন করে। কালক্রমে তারাই কলকাতায় প্রভাব বিস্তার করে। কারণ, ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার পর মুর্শিদাবাদ থেকে শাসনযন্ত্র কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়।স্বাভাবিকভাবেই পূর্ববাংলা অবহেলিত থাকে। পূর্ববাংলার প্রশাসন ব্যবস্থা ছিল দুর্বল, অদক্ষ এবং সে কারণে কার্যকর ও সক্রিয় ছিল না। জনকল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য যে অর্থ এ এলাকায় ব্যয় করা হতো, তা ছিল বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা: সুমিত সরকারের মতে, ডিসেম্বর ১৯০৩ থেকে ১৯ জুলাই ১৯০৫ সালের মধ্যে “Transfer plan was transformed into full scale partition”। এ সময়ের রাজনৈতিক অভিলাষ ছিল পূর্ব ও পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের বিভক্ত করা। ১৯০৩ সালের ২৮ মার্চের চিঠিতে ফ্রেজার প্রথমবারের মতো বঙ্গভঙ্গের রাজনৈতিক ফায়দার কথা উল্লেখ করেছিলেন। বেশিরভাগ ঐতিহাসিকের অভিমত, বঙ্গভঙ্গের পিছনে ব্রিটিশদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল মুখ্য।

অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা: কলকাতা ছিল অবিভক্ত বাংলার প্রাণকেন্দ্র। স্বাভাবিকভাবেই পূর্ববাংলার ঢাকা ছিল অবহেলিত বিশেষ করে বাঙালি এলিট শ্রেণীভুক্ত লোকদের কলকাতায় অবস্থান একে সর্বভারতীয় মিলনস্থল হিসেবে গড়ে তোলে। স্বাভাবিকভাবেই সকল প্রকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিষ্ঠান সেখানে গড়ে ওঠে। পূর্ববাংলার রাজধানী এ সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বিরত ছিল।

খ)  বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ও বিপক্ষে বিক্রিয়া মূল্যায়ন।

মুসলিম জনগোষ্ঠী প্রথমদিকে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করলেও পরবর্তীতে তারা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে অবস্থান নেয়। অপরদিকে হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে নিচে তাদের প্রতিক্রিয়া বর্ণনা করা হলোঃ-

  • মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া

১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের প্রতি হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায় ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। শুরুতে মুসলমান সম্প্রদায় বিভক্তির বিরোধীতা করলেও পরবর্তীতে নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়। মুসলিম পত্রপত্রিকাগুলো নতুন প্রদেশ গঠনে সন্তোষ প্রকাশ করে। শিক্ষা-দীক্ষা সহ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে নানা রকম সুযোগ-সুবিধার আশায় পূর্ব বঙ্গ ও আসাম প্রদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানগণ বঙ্গভঙ্গকে সর্বান্তকরণে সমর্থন করে। এমনকি কলকাতার কিছু সংখ্যক মুসলমানও এ প্রদেশ সৃষ্টিকে স্বাগত জানায়। অবশ্য একদল শিক্ষিত উদারপন্থী মুসলমান এর বিরোধিতা করেছিলেন। ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগ বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন জানায়।

  • হিন্দুদের প্রতিক্রিয়া 

বঙ্গভঙ্গ বর্ণ হিন্দুদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। পেশাগত ও শ্রেণী স্বার্থে হিন্দু জমিদার, পুঁজিপতি শ্রেণী, ব্যবসায়ী, আইনজীবী ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে যোগ দেয়। অবশ্য নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা এ আন্দোলনে শরিক হয়নি তথাপি এ আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হয়। এক পর্যায়ে এর সাথে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ যুক্ত হলে সরকার নতি স্বীকার করে। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।

গ) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পটভূমি  ও রাজনৈতিক কর্মসূচি

  • ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পটভূমি

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ লক্ষ্য করা যায়। ১৮৫০-এর পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সভা-সমিতি গঠিত হয়। যদিও ঐক্যবদ্ধ সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদের জন্ম হতে আরও অনেক দিন বাকি ছিল, তথাপি এসব নতুন নতুন সংগঠনের কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রথম জাতীয়তাবোধের সূচনা হয়। ১৮৫৩ খ্রি. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চার্টার নবায়নের প্রাক্কালে শিক্ষিত ও সচেতন ভারতীয়দের মধ্যে সংগঠন গড়ার প্রবণতা দেখা যায়। এর কারণ ছিল ভারতীয়দের দাবি-দাওয়া কোন সংস্থার মাধ্যমে বৃটিশ কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করার তাগিদ। অর্থাৎ এই সময়ে ভারতীয়দের মধ্যে রাজনীতি সচেতনতা এবং দেশাত্মবোধের জন্ম হয়। কাজেই ১৮৮৫ খ্রি. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠিত হওয়ার পটভূমি ছিল পূর্ববর্তী ত্রিশ বছর সময়ে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন স্থানীয় এবং শ্রেণীভিত্তিক সংগঠন ও সেগুলোর কার্যক্রম সূচিত হওয়া।

উনিশ শতকের শেষার্ধে জাতীয়তাবোধ আরো প্রসার লাভ করে। ইংরেজি শিক্ষার বিস্তার, যোগাযোগ ব্যবস্থার (বিশেষত রেল ও ডাক যোগাযোগ) উন্নয়ন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে বৃটিশ শাসনের ভালমন্দ সম্পর্কে আলোচনা ইত্যাদি ছিল এর প্রধান কারণ। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে জাতীয় চেতনা উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত এবং শহুরে শ্রেণীর মধ্যে সীমিত ছিল। আলোচ্য সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত সংগঠন ছিল Indian Association বা ভারতসভা। ১৮৭৬ খ্রি. সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী এবং আনন্দমোহন বসু এটি প্রতিষ্ঠা করেন। সুরেন্দ্রনাথ একে “শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর রাজনৈতিক সচেতনতার প্রথম সংঘবদ্ধ রূপ” বলে উল্লেখ করেন। পূর্বোল্লেখিত সংগঠনসমূহের তুলনায় ভারতসভার কর্মসূচি ছিল ব্যাপকতর এবং এটা ছিল আরো বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল। এর উদ্দেশ্যাবলি ছিল:

(১) দেশে জনমত গঠন করা;

(২) রাজনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের বিভিন্ন অ লের অধিবাসীদেরকে ঐক্যবদ্ধ করা

(৩) হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে মৈত্রীর প্রসার; এবং

(৪) রাজনৈতিক আন্দোলনে অশিক্ষিত জনসাধারণের যোগদানের ব্যবস্থা করা।

সর্বভারতীয় অসাম্প্রদায়িক জাতীয় চেতনা প্রসারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের প্রাণপুরুষ ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী।
১৮৭৭ খ্রি. সৈয়দ আমীর আলী ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। জাতীয়তাবাদী ভাবধারার উন্মেষকাল থেকেই ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যবাদ এর একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা দেয়।শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, পেশা, চাকরি ইত্যাদি যাবতীয় ব্যাপারে মুসলমানদের পশ্চাৎপদতা এবং সর্বভারতীয় পর্যায়ে এই সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘিষ্ঠতা এই স্বাতন্ত্র্যবাদের পেছনে ক্রিয়াশীল ছিল।তবে ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন এবং ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশনের মধ্যে কোন প্রকার বৈরী সম্পর্ক ছিল না।১৮৮৩ খ্রি. ইলবার্ট বিল সম্পর্কিত আন্দোলনে এই দুই সংগঠন পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করে। এভাবে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পটভূমি তৈরি হয়।

  • রাজনতৈকি র্কমসূচি

১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের শেষ চারদিন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন বোম্বাইতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি ছিলেন প্রখ্যাত বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়Ñ যিনি ড.ঈ. ইড়হহবৎলর নামে অধিক পরিচিত ছিলেন। ভারতের বিভিন্ন স্থান হতে আগত বাহাত্তর জন প্রতিনিধিসহ প্রায় শতাধিক লোক এই অধিবেশনে যোগদান করেন। তবে সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রধান পুরুষ সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী এই সভায় উপস্থিত ছিলেন না। ঠিক একই সময়ে তিনি কলিকাতায় জাতীয় সম্মেলনের (ঘধঃরড়হধষ ঈড়হভবৎবহপব) অধিবেশন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তবে কংগ্রেসের দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে সুরেন্দ্রনাথ যোগদান করেন এবং পরবর্তী সময়ে এই সংগঠনের নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হন। সেই সঙ্গে তাঁর উদ্যোগে গঠিত জাতীয় সম্মেলনের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায়।

হিউম আশা করেছিলেন যে, কংগ্রেস হবে সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পওে সামাজিক প্রশ্নে এই সংগঠনকে না জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ, তাতে মতানৈক্যের সম্ভাবনা বিদ্যমান ছিল। প্রথম অধিবেশনে যেসব প্রস্তাব গৃহীত হয় সেগুলো ছিল:

(১) বৃটিশ ভারতীয় সরকারের কার্যাবলি তদন্তের জন্যে একটি রাজকীয় (জড়ুধষ) কমিশন গঠন;

(২) ভারত সচিবের পরিষদ বিলুপ্ত করা;

(৩) কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদসমূহের সংস্কার এবং নির্বাচনের মাধ্যমে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা;

(৪) সিভিল সার্ভিসের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা একই সঙ্গে ইংল্যান্ড এবং ভারতে নেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং পরীক্ষার্থীর বয়স অনধিক ২৩ বছর নির্ধারণ করা। অন্যান্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্যে ভারতে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা;

(৫) সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি অনাবশ্যক এবং এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করা।

ঘ) মুসলমি লীগ প্রতষ্ঠিার পটভূমি এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দশ্যে

  • মুসলমি লীগ প্রতষ্ঠিার পটভূমি

১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় মুসলমানদের অবিসংবাদিত নেতা স্যার সৈয়দ আহমদ খানের মৃত্যুর ফলে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নেতৃত্বের শূন্যতা দেখা দেয়। এর বেশ কয়েক বছর পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু ঘটনার সূত্রপাত হয় যা বিরাজমান সাম্প্রদায়িক স্বাতন্ত্র্যবোধকে আরো বেশি শক্তিশালী উপাদানে পরিণত করে। লর্ড কার্জন কর্তৃক ১৯০৫ খ্রি. সম্পাদিত বঙ্গবিভাগকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক বিরোধ জোরদার হয়। বঙ্গবিভাগ বিরোধী আন্দোলনের পুরোভাগে ছিল কলিকাতাকেন্দ্রিক শিক্ষিত হিন্দু পেশাজীবী শ্রেণী। নতুন সৃষ্ট প্রদেশ ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল বিধায় বঙ্গবিভাগের ফলে মুসলমানগণ লাভবান হবে এই ছিল সাধারণ ধারণা। ফলে অল্প সংখ্যক শিক্ষিত মুসলমান ব্যতীত বাংলার বেশির ভাগ মুসলমান বঙ্গ বিভাগের পক্ষে ছিল। বঙ্গবিভাগের পক্ষে মুখ্য ভ‚মিকা পালন করেন ঢাকার নওয়াব সলিমুল্লাহ। বঙ্গবিভাগ প্রসূত বিক্ষোভ, আন্দোলন, লেখালেখি, বক্তৃতা-বিবৃতি ইত্যাদির মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতার সৃষ্টি হয়। ভারতের বিভিন্ন অ লের মুসলমান নেতৃবৃন্দ একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজন অনুভব করেন। এ-ই ছিল মুসলিম লীগ নামক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট।

এ সময়ের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। ঘটনাটি ছিল ১৯০৬ খ্রি. বৃটেনে উদারপন্থীগণ (খরনবৎধষং) কর্তৃক সরকার গঠন এবং নতুন সরকারের ঘোষিত ভারত-নীতি। ঐ বছরের ২০শে জুলাই ভারত সচিব জন মর্লি ভারতবর্ষে প্রতিনিধিত্বশীল শাসন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন এবং সেই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় শাসন সংস্কারের ইঙ্গিত দেন। এতে ভারতীয় মুসলমানদেও স্বার্থ কতটুকু সংরক্ষিত হবে সেই ব্যাপারে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, যা মুসলিম নেতৃবৃন্দের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১ অক্টোবর পঁয়ত্রিশ জনের একটি দল আগা খানের নেতৃত্বে সিমলায় ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এটি ছিল বিখ্যাত সিমলা ডেপুটেশন। মুসলিম নেতৃবৃন্দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লর্ড মিন্টো তাঁদেরকে এই মর্মে আশ্বস্ত করেন যে, ভবিষ্যতের যে কোন শাসনতান্ত্রিক সংস্কারে মুসলিম স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে সরকার সচেতন থাকবে। তিনি মুসলিম নেতৃবৃন্দের পেশকৃত পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিও সহানুভ‚তির সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

  • লক্ষ্য ও উদ্দশ্যে

(ক) বৃটিশ সরকারের প্রতি ভারতীয় মুসলমানদের আনুগত্য বৃদ্ধি করা এবং কোন সরকারি নীতির উদ্দেশ্য সম্পর্কে মুসলমানদের ভুল ধারণার অবসান করা;

(খ) ভারতের মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা, উন্নয়ন সাধন এবং তাদের প্রয়োজন ও আশা-আকাক্সক্ষার কথা সরকারের নিকট সসম্মানে পেশ করা;

(গ) মুসলমানদের মধ্যে যাতে অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি বৈরী মনোভাব জাগ্রত না হয় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অবশ্য এই নীতির সঙ্গে লীগের অন্যান্য লক্ষ্যসমূহের যাতে কোন সংঘাত না হয় সেই ব্যাপাওে সতর্ক থাকতে হবে।

Changed status to publish
Add a Comment
Write your answer.