বাংলাদেশের বেকারত্ব নিরসরে আত্মকর্মসংস্থানের ভূমিকা নিরূপন

1.49K viewsব্যবসায় উদ্যোগ
0

বাংলাদেশের বেকারত্ব নিরসরে আত্মকর্মসংস্থানের ভূমিকা নিরূপন। এসএসসি ২০২১ ব্যবসায় উদ্যোগ ৫ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান।

বাংলাদেশের বেকারত্ব নিরসরে আত্মকর্মসংস্থানের ভূমিকা নিরূপন

Assignment: বাংলাদেশের বেকারত্ব নিরসরে আত্মকর্মসংস্থানের ভূমিকা নিরূপন।

বাংলাদেশের বেকারত্ব নিরসরে আত্মকর্মসংস্থানের ভূমিকা নিরূপন

বাংলাদেশের বেকারত্ব নিরসনে আত্মকর্মসংস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মানুষ নিজের এবং অন্যের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারলেই বাংলাদেশের বেকারত্ব দূর নিরসন সম্ভব। বাংলাদেশের বেকারত্ব নিরসনে আত্মকর্মসংস্থানের ভূমিকা আলোচনা করতে গেলে আত্মকর্মসংস্থান এর ধারণা, আত্মকর্মসংস্থানের উপযুক্ত ও লাভজনক ক্ষেত্রগুলো, আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধকরণের উপায় এবং আত্মকর্মসংস্থানের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে হবে। নিচে এগুলো আলোচনা করা হলো।

আত্মকর্মসংস্থানের ধারণা

নিজস্ব পুজিঁ অথবা ঋণ করা স্বল্প সম্পদ, নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নূন্যতম ঝুঁকি নিয়ে আত্ম প্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। 

উদাহরণ, 

দরিদ্র পরিবারের সন্তান এস. এস. সি. পাস আজহার আলী বাড়ির আশেপাশে পতিত জমি নিয়ে কিছু একটা করার কথা ভাবতে থাকেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে শুরু করেন পতিত জমিতে করলা চাষ। সপ্তাহে এখন তার ক্ষেতে ১ টন করলা ফলে। করলার আয় দিয়েই আজহারের ছয় সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ চলছে স্বাচ্ছন্দে। শিক্ষিত চাষী আজহার করলার পাশাপাশি নানা রকম সবজি আবাদ করে বেকারত্ব ঘুচিয়ে এখন স্বাবলম্বী। 

এই যে জনাব আজহার আলী নিজের দক্ষতা ও গুণাবলী দ্বারা নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করেছেন এটাই আত্মকর্মসংস্থান। জীবিকা অর্জনের বিভিন্ন| পেশার মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান একটি জনপ্রিয় পেশা। বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা, রেডিও ও টেলিভিশন মেরামত, হাঁস-মুরগি পালন, মৌমাছি চাষ ইত্যাদি আত্মকর্মসংস্থানের আওতাভুক্ত। ব্যবসায় উদ্যোগের সাথে আত্মকর্মসংস্থানের সম্পর্ক খুব নিবিড়। আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি নিজের আত্মকর্মসংস্থানের চিন্তা করে কাজে হাত দেন।

আত্মকর্মসংস্থানের উপযুক্ত ও লাভজনক ক্ষেত্র 

চাহিদা আছে এমন পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় করে বা সেবাদান করে অর্থ উপার্জন করা যেতে পারে। সবসময় খেয়াল রাখতে হবে আমাদের যে সকল সম্পদ রয়েছে তার সঠিক ব্যবহার করে কিভাবে সম্মানজনকভাবে জীবিকা উপার্জন করা যায়। স্বল্প মূলধন নিয়ে নিজস্ব মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই আত্বকর্মসংস্থানে সফল হওয়া যায়। এ সব বিষয় বিশ্লেষণ করে আমরা আত্মকর্মসংস্থানের বেশ কিছু উপযুক্ত ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে পারি। নিম্নের ছকে তার কিছু উদাহরণ দেওয়া হলঃ 

হস্তচালিত তাঁত

মাদুর বা ম্যাট তৈরি

মৃৎশিল্প

বাঁশজাত দ্রব্য প্রস্তুতকরণ

লবণ উৎপাদন

টেইলারিং

পোশাক প্রস্তুতকরণ

মাছের জাল তৈরি

কাঠের আসবাবপত্র তৈরি

স্টিলের আসবাবপত্র তৈরি

মাটির বাসন প্রস্তুতকরণ

কামারের কাজ

সেরিকালচার

নৌকা তৈরি

মাছ শুকানো

গোল আলুর ময়দা তৈরি

পাটের ম্যাট তৈরি

আলুর চিপস তৈরি

গৃহস্থালির দ্রব্যাদি তৈরি

বাই সাইকেল মেরামত

গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার

বেতের সামগ্রী তৈরি

কাচের তৈজসপত্র তৈরি

পাট তেরি

পিতল ও কাঁসার দ্রব্যাদি প্রস্তুত

পাটের সৌখিন দ্রব্যাদি তৈরি

গেঞ্জি তৈরি

চামড়াজাত দ্রব্য উৎপাদনে

ঝিনুক দ্রব্যাদি প্রস্তুত

বেকারি

আটা-ময়দা প্রস্তুত

ভোজ্য তেল উৎপাদন

খাদ্য জাত দ্রব্যের উৎপাদন

নিটিং দ্রব্য প্রস্তুত

এমব্রয়ডারি

সুতা কাটা

কাঠের খেলার সরঞ্জাম তৈরি

প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং

প্লাস্টিক দ্রব্যাদি প্রস্তুত

তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ

আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করণের করণীয়

যেহেতু দেশে চাকরির সুযােগ সীমিত এবং ইচ্ছা করলেই সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে এত অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তাই এর বিকল্প হচ্ছে নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করা। কিন্তু এ দেশের যুব সমাজের নিকট আত্মকর্মসংস্থানের ধারণা

স্বচ্ছ ও যথেষ্ট নয়। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের সামাজিক মলূ্যবোেধ ও পুথিঁ গত পড়াশুনার কারণে যুব সমাজ জীবিকা বলতে চাকরিকে বুঝে থাকে। ফলে শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বর্তমান যুব ও তরুণ সমাজ ও আগামী প্রজন্মকে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। নিম্নে সেগুলো উল্লেখ করা হলােঃ 

. শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে হবে এ বলে যে, কোনাে পেশা বা কাজই ছােট ও অপমানের নয়। 

. স্ব স্ব এলাকার আত্মকর্মসংস্থানের উপযুক্ত ক্ষেত্র গুলোর তালিকা প্রণয়ন করে বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদের দেয়ালে প্রচারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

. স্ব স্ব এলাকার আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে যারা স্বাবলম্বী ও সফল হয়েছে তাদেরকে বিদ্যালয়ে এনে শিক্ষার্থীদের তাদের জীবন কাহিনী শোনাতে হবে।

. বিদ্যালয় বা কলেজ থেকে যে সকল শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে কিংবা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসার সুযোগ পায় না তাদেরকে বিভিন্ন উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও ঋণদান ব্যবস্থা করতে হবে। 

. নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষাক্রমে বৃত্তিমূলক, কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে পর্যাপ্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। 

৬. আত্মকর্মসংস্থানে সামনে রেখে যুব উন্নয়ন ব্যাংক ও শিক্ষা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সহজ শর্তে ঋণ দানের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া ব্যাংক সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প সুদে ঋণ দানের ব্যবস্থা করতে হবে। 

আত্মকর্মসর্মংস্থান এর গুরুত্ব

আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে ব্যক্তির নিজের যেমন কর্মসংস্থান হয়, তেমনি অনেক নতুন আত্মকর্মসংস্থানের সূযােগ সৃষ্টি হয়। সীমিত চাকরির বাজারে সকলের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ হয় না। যারা স্বাধীনভাবে কিছুকরতে চায় তারা নিজস্ব মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগাতে এগিয়ে আসেন এবং আত্মকর্মসংস্থান করে স্বাবলম্বী হন। তাই আত্মকর্মসংস্থানের গুরুত্ব দেশের অর্থনীতিতে অপরিসীম। নিম্নে সংক্ষেপে তা আলােচিত হলাে:– 

. কর্মসংস্থানকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়- মজুরি বা বেতন ভিত্তিক চাকরি, আত্নকর্মসংস্থান ও ব্যবসায়। যারা স্বাধীনভাবে কাজ করে জীবিকা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি উত্তম পন্থা। 

. কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শ্রমজীবী ও চাকরিজীবী লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আত্মকর্মসংস্থানের চাহিদা যে হারে বৃদ্ধি পায় সে হারে আত্মকর্মসংস্থানের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না। এক্ষেত্রে আত্মকর্মসংস্থানের কোন বিকল্প নাই। 

. আত্মকর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় মূলধন হলো নিজের দক্ষতা। কর্ম সম্পাদনের জন্য যে যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল প্রয়োজন তার অর্থসংস্থান করাও অনেকটা সহজ।

. বর্তমানে আত্মকর্মসংস্থানের আওতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের তুলনায় বর্তমানে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। 

. আত্মকর্মসংস্থান একটি স্বাধীন পেশা। আর এ ব্যবসায় যেহেতু অনেক সময় নিজের বাড়িতে বা জমিতে করা যায় যেহেতু আলাদা খরচ হয় না। 

. অন্যান্য পেশায় আয়ের সম্ভাবনা সীমিত। কিন্তু আত্মকর্মসংস্থান থেকে প্রাপ্ত আয় প্রথম থেকে সীমিত ও অনিশ্চিত হলেও পরবর্তীতে এ পেশা থেকে আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা অসীম। 

. বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় এখানে মজুরি অনেক কম। আবার আমাদের দেশে মৌসুমী বেকারত্বের সমস্যাও প্রকট। এসকল সমস্যা সমাধানে আত্মকর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। 

.আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে শহরমুখী জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ ও গ্রামীণ সমাজ ও অর্থনীতির উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। 

. আত্মকর্মসংস্থানের জন্য বয়স কোনো সমস্যা নয়। এর মাধ্যমে যে কোন বয়সের মানুষ তার দক্ষতা অনুযায়ী অর্থ উপার্জন করতে পারে। 

১০.আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত থাকলে তরুণ সমাজ নানা সমাজ বিরোধী কাজে লিপ্ত না থেকে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

এসএসসি ২০২১ ব্যবসায় উদ্যোগ ৫ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট উত্তর

বাংলাদেশের বেকারত্ব নিরসরে আত্মকর্মসংস্থানের ভূমিকা নিরূপন

Get SSC Business Entrepreneurship Assignment Answer

এসাইনমেন্ট সমাধান বা যেকোনো প্রয়োজনে-

Changed status to publish
Add a Comment
Write your answer.