প্রতীকের পাশে উল্লেখিত ভরসংখ্যাবিশিষ্ট মৌলের নিউট্রন সংখ্যা, বাের মডেল

1.25K viewsরসায়ন
0

প্রতীকের পাশে উল্লেখিত ভরসংখ্যাবিশিষ্ট মৌলের নিউট্রন সংখ্যা, বাের মডেল অনুসারে পরমাণুর গঠনের চিত্র, শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাস এবং উপশক্তিস্তরে (অরবিটালসমূহে) ইলেকট্রন বিন্যাস সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন। এসএসসি ২০২১ রসায়ন ২য় সপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্ট সমাধান।

SSC Chemistry 2nd Week Assignment 2021

স্তরঃ এস.এস.সি পরীক্ষা ২০২১, বিভাগঃ বিজ্ঞান, বিষয়ঃ রসায়ন, বিষয় কোডঃ ১৩৭, মোট নম্বরঃ ১০, অ্যাসাইনমেন্ট নম্বর-০১

অধ্যায় ও অধ্যায়ের শিরােনামঃ তৃতীয়, পদার্থের গঠন।

অ্যাসাইনমেন্টঃ প্রতীকের পাশে উল্লেখিত ভরসংখ্যাবিশিষ্ট মৌলের নিউট্রন সংখ্যা, বাের মডেল অনুসারে পরমাণুর গঠনের চিত্র, শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাস এবং উপশক্তিস্তরে (অরবিটালসমূহে) ইলেকট্রন বিন্যাস সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন।

Na(11), ভরসংখ্যা -23 P(15), ভরসংখ্যা -31 K(19), ভরসংখ্যা -40 Cu(29), ভরসংখ্যা -63

শিখনফল/বিষয়বস্তুঃ

  • ১. পরমাণু ইলেকট্রন, প্রােটন ও নিউট্রন সংখ্যা হিসাব করতে পারব।
  • ২. পরমাণুর গঠন সম্পর্কে রাদারফোর্ড ও বাের পরমাণু মডেলের বর্ণনা করতে পারব।
  • ৩. পরমাণুর বিভিন্ন কক্ষপথ এবং কক্ষপথের বিভিন্ন উপস্তরে পরমাণুর ইলেকট্রনসমূহকে বিন্যাস করতে পারব।

নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি):

৪টি মৌলের নিউট্রন সংখ্যার হিসাব বের করতে হবে। ৪টি মৌলের বাের মডেল অনুসারে পরমাণুর গঠনের চিত্র অংকন করতে হবে ৪টি মৌলের শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাস করতে হবে ৪টি মৌলের উপশক্তিস্তরে (অরবিটালসমূহে) ইলেকট্রন বিন্যাস করতে হবে।

এসএসসি ২০২১ রসায়ন ২য় সপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

রাসায়নিক মৌলের ক্ষুদ্রতম অংশ যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই (নিস্ক্রিয় গ্যাসের পরমাণু ব্যতীত), কিন্তু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশ গ্রহণ করতে পারে সেসব আণুবীক্ষণিক কণিকাদিকে পরমাণু বলে । সমস্ত কঠিন, তরল, গ্যাস এবং আয়ন -এর গঠনের মূলে রয়েছে নিস্তরিত বা আধানগ্রস্ত পরমাণু । পরমাণুর আকার খুবই ক্ষুদ্র; সাধারনত এরা দৈর্ঘ্যে ১০০ পিকোমিটার ( ১ মিটারের ১০,০০০,০০০,০০০ ভাগ বা চুলের ১ লক্ষ ভাগের ১ ভাগ)।

পরমাণুর তিনটি উপাদান। যেসব সূক্ষ কণিকা দিয়ে পরমাণু গঠিত, তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলে । এরা হচ্ছে ইলেকট্রন , প্রোটন এবং নিউট্রন । এ তিনটি কণিকা বিভিন্ন সংখ্যায় একত্রিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু গঠন করে । ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন এবং আধানহীন নিউট্রন একত্রিত হয়ে নিউক্লিয়াস গঠন করে আর এদেরকে ঘিরে ঋণাত্মক আধানের ইলেকট্রন ঘুরছে ।

মৌলের নিউট্রন সংখ্যার হিসাব-

দেওয়া আছে,

মৌলগুলো Na(11), P(15), K(19), Cu(29)

আমরা জানি,

নিউট্রন সংখ্যা= ভর সংখ্যা(A) – পারমাণবিক সংখ্যা(z)

Na- এর ভর সংখ্যা (A) = 23 এবং পারমাণবিক সংখ্যা (z)=11
সুতরাং, Na এর নিউট্রন সংখ্যা = A-z

=23-11
=12

P এর ভর সংখ্যা(A)= 31 এবং পারমাণবিক সংখ্যা(z)=15
সুতরাং, P এর নিউট্রন সংখ্যা = A-z

=31-15
=16

K এর ভর সংখ্যা(A)= 40 এবং পারমাণবিক সংখ্যা(z)=19
সুতরাং, K এর নিউট্রন সংখ্যা= A-z

=40-19
=21

Cu এর ভর সংখ্যা(A)= 63 এবং পারমাণবিক সংখ্যা(z)=29
সুতরাং, Cu এর নিউট্রন সংখ্যা= A-z

=63-29
=34

১৯১৩ সালে ডেনমার্কের পদার্থবিজ্ঞানী নীলস বোর তার পরমাণু মডেলের জন্য দুটি প্রস্তাব রাখেন যা বোরের স্বীকার্য নামে পরিচিত।

  • স্থায়ী অবস্থা স্বীকার্য (Postulates of Stationary States)
  • কম্পাঙ্ক স্বীকার্য (Postulates of Frequency)

তিনি বলেন যে, নিউক্লিয়াসের চারপাশে কয়েকটি অনুমোদিত পথে ইলেকট্রন ঘুরছে এবং তিনি সর্বপ্রথম বর্ণালী সম্পর্কে ধারণা দেন।

বোর মডেল অনুসারে পরমাণু সমূহ এর গঠন এর চিত্র নিচে দেওয়া হল-

 

 

একটি পরমাণুর শক্তিস্তর বা ইলেকট্রনের শক্তিস্তরকে (সাধারণভাবে প্রধান শক্তিস্তর নামে পরিচিত) পরমাণুর নিউক্লিয়াসের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান ইলেক্ট্রনের কক্ষপথ বলা যেতে পারে। এটি মূলতঃ পারমাণবিক অরবিটালসমূহের একটি গ্রুপ যাদের প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যার (n) মান সর্বদাই সমান। ইলেকট্রনের শক্তিস্তর এক বা একাধিক উপশক্তিস্তর নিয়ে গঠিত হয়। প্রতিটি উপশক্তিস্তরে আবার দুই বা ততোধিক অরবিটাল থাকে যাদের কৌণিক ভরবেগ কোয়ান্টাম সংখ্যার মান ১। অর্থাৎ একই। এই শক্তিস্তরগুলোই একটি পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস তৈরি করে। গাণিতিকভাবে এটি দেখানো সম্ভব যে, একটি শক্তিস্তরে যে সংখ্যক ইলেকট্রন থাকতে পারে তার মান

প্রতিটি শক্তিস্তর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে। সে কারণে প্রতিটি শক্তিস্তর একটি নির্দিষ্ট সীমার ইলেক্ট্রন শক্তির সাথে সম্পর্ক যুক্ত, আর তাই পরমাণুর ভেতরদিকের প্রতিটি শক্তিস্তর প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ না হলে পরবরতী শক্তিস্তরে (বাইরের দিকের) ইলেক্ট্রন যেতে পারে না। পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে পরিভ্রমণরত ইলেক্ট্রন দ্বারা ঐ পরমাণুর বৈশিষ্ট নির্ধারিত হয়ে থাকে।

শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাস-

 

উপশক্তিস্তরে (অরবিটালসমূহে) ইলেকট্রন বিন্যাস-

 

বোনাস তথ্য ?

Cu এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস অন্য সব মৌলের চেয়ে একটু ব্যতিক্রম। Cu এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস এমন হওয়ার কথা –

Cu(29)- 1s22s22p63s23p63d94s2

কারণ আমরা সর্বদাই জেনে এসেছি আউফবাউ নীতি অনুসারে যে ইলেক্ট্রন প্রথমে নিম্ন শক্তিস্তরে প্রবেশ করে ক্রমান্বয়ে উচ্চ শক্তিস্তরের দিকে যায়। আর এই নীতি অনুসারে উপরের বিন্যাসটিই সঠিক। কিন্তু Cu এর ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রম। আমরা সবাই জানি ইলেক্ট্রন সমসময় স্থিতিশীল থাকতে চায়। আর তাই d অরবিটাল সম্পূর্ণরূপে স্থিতিশীল করতে 4s অরবিটাল থেকে একটি ইলেক্ট্রন 3d অরবিটালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে Cu এর সঠিক ইলেক্ট্রন বিন্যাস টি হবে:-

Cu(29)- 1s22s22p63s23p63d104s1

এসব কারণেই মূলত Cu এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস টি এরূপ।

Get All SSC Chemistry Assignment 2021 Answer

Changed status to publish
Add a Comment
Write your answer.