দুই বিঘা জমি কবিতার ৩৯-৬২ পঙক্তি গুলোর গদ্যরুপ

3.05K viewsবাংলা
0

দুই বিঘা জমি কবিতার ৩৯-৬২ পঙক্তি গুলোর গদ্যরুপ

দুই বিঘা জমি কবিতার ৩৯-৬২ পঙক্তি গুলোর গদ্যরুপ

‘দুই বিঘা জমি’ একটি কাহিনি-কবিতা। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কথা ও কাহিনি’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত। এ কবিতা পাঠ করে শিক্ষার্থীরা শোষকশ্রেণির নিষ্ঠুর শোষণ ও গরিবদের দুর্দশা সম্পর্কে জানতে পারবে। গরিবদের প্রতি তারা সহানুভূতিশীল হবে।

এই কবিতার মাধ্যমে কবি দেখাতে চেয়েছেন, সমাজে এক শ্রেণির লুটেরা বিত্তবান প্রবল প্রতাপ নিয়ে বাস করে। তারা সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করে সম্পদশালী হয়। তারা অর্থ, শক্তি ও দাপটের জোরে অন্যায়কে ন্যায়, ন্যায়কে অন্যায় বলে প্রতিষ্ঠা করে। ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতাটিতে কবি এদের স্বরূপ তুলে ধরেছেন।

বিদীর্ণহিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারি দিকে চেয়ে দেখি-

প্রাচীরের কাছে এখনো যে আছে, সেই আমগাছ, এ কি!

বসি তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যথা,

একে একে মনে উদিল স্মরণে বালক-কালের কথা।

সেই মনে পড়ে জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে রাত্রে নাহিকো ঘুম,

অতি ভোরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি আম কুড়াবার ধুম।

সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা পলায়ন-

ভাবিলাম হায় আর কী কোথায় ফিরে পাব সে জীবন!

সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস শাখা দুলাইয়া গাছে,

দুটি পাকা ফল লভিল ভূতল আমার কোলের কাছে।

ভাবিলাম মনে বুঝি এতখনে আমারে চিনিল মাতা,

স্নেহের সে দানে বহু সম্মানে বারেক ঠেকানু মাথা।

হেনকালে হায় যমদূত প্রায় কোথা হতে এল মালী,

ঝুঁটি-বাঁধা উড়ে সপ্তম সুরে পাড়িতে লাগিল গালি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত “দুই বিঘা জমি” কবিতার উক্ত পঙক্তিগুলোর গদ্যরুপ নিম্নে বর্ণিত হলোঃ

দরিদ্র কৃষক উপেন অভাব-অনটনে বন্ধক দিয়ে তার প্রায় সব জমি হারিয়েছে। বাকি ছিল মাত্র দুই বিঘা জমি। কিন্তু জমিদার তার বাগান বাড়ানোর জন্য সেই জমির দখল নিতে চায়। সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত সেই জমি উপেন দিতে না চাইলে জমিদারের ক্রোধের শিকার হয় সে। মিথ্যা মামলা দিয়ে জমিদার সেই জমি দখল করে নেয়। ভিটেছাড়া হয়ে উপেন পথে বেরিয়ে পড়ে। সাধুর শিষ্য হয়ে সে গ্রাম-গ্রামান্তরে ঘুরে। কিন্তু পৈতৃক ভিটের স্মৃতি সে কিছুতেই ভুলতে পারে না। ১৫-১৬ বছর পরে একদিন সে তার চিরপরিচিত গ্রামে ফিরে আসে তার জমি টানে।

কিন্তু সেখানে তখন দেখে তার জমির কোন চিহ্নই নেই। ক্ষতবিক্ষত হৃদয় নিয়ে উপেন ফিরে ফিরে চারদিকে দেখে। হঠাৎ প্রাচীরের কাছে তার সেই দুই বিঘার পুরনো আম গাছ দেখে আশ্চর্য হয়। সেই গাছের তলায় গিয়ে বসে তার ব্যথা শান্ত হয়ে আসে। পুলকিত মনে তার বাল্যকালের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে রাতে ঘুম হত না সকালের অপেক্ষায়। অতি ভোরে উঠে এই আম কুড়ানোর ধুম লেগে যেত। স্তব্ধ দুপুরে পাঠশালা-পলায়ন এর কথা মনে পড়ে তার। উপেন ভাবে সেদিনের সেই জীবন আর ফিরে পাওয়ার নয়।

তার এমন আনন্দ-বেদনার স্মৃতির কল্পনার মধ্যে হঠাৎ এক দমকা বাতাস বয়ে গেল। আম গাছের শাখা দুলে উঠলো। আর তাতেই দুটি পাকা আম মাটিতে পড়ল একেবারে উপেনের কাছে। উপেন ভাবলো এত ক্ষণে তার জন্মভূমি মা তাকে চিনতে পেরেছে। তাই সে সন্তানকে স্নেহের দান ওই দুটি ফল তাকে উপহার দিয়েছে। এই ভেবে উপেন মায়ের সেই দান মাথা নত করে গভীর শ্রদ্ধায় গ্রহণ করল। তখন কোথা থেকে মৃত্যুর বার্তাবাহকের মত হাজির হলো ওই বাগানের মালি। তার মাথায় ঝুটি বাঁধা। সে এসেই উপেনকে গালিগালাজ শুরু করলো। সামান্য দুটি ফলের জন্য মালি তাকে গালিগালাজ করতে শুরু করলো। অথচ সেই ফল উপেন কুড়িয়ে পেয়েছে এবং মায়ের দান ভেবে সাদরে গ্রহণ করেছে।

Changed status to publish
Add a Comment
Write your answer.