বর্তমানে কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখায় ই-লার্নিং এর ভূমিকা

0

‘বর্তমানে কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখায় ই-লার্নিং এর ভূমিকা’বিষয়ক ২৫০ শব্দের মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর।

‘বর্তমানে কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখায় ই-লার্নিং এর ভূমিকা'বিষয়ক ২৫০ শব্দের মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর।

০৬ জুন, ২০২১ খ্রি:

প্রধান শিক্ষক

বখ্শগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়

নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।

বিষয় : প্রতিবেদন জমাদান প্রসঙ্গে।

সূত্র : ব.উ.বি.প্র.০৫/২১ তারিখ : ০১ জুন, ২০২১ খ্রি:

মহোদয়,

সবিনয় নিবেদন এই যে, গত ০১ জুন, ২০২১ খ্রি এর স্মারক নং ব.উ.বি.প্র.০৫/২১ মোতাবেক আপনার নিকট থেকে আদিষ্ট হয়ে বর্তমানে কোভিড-১৯ উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখায় ই-লার্নিং এর ভূমিকা নিয়ে আমার প্রতিবেদন বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রস্তুত করেছি।

অতএব, আপনার সদয় বিবেচনার জন্য “বর্তমানে কোভিড-১৯ উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখায় ই-লার্নিং এর ভূমিকা” সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি নিম্নে উপস্থাপন করলাম।

প্রতিবেদক

ইরফান

বখ্শগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়

নবম শ্রেণি, বিজ্ঞান শাখা, রোল: ০১

বর্তমানে কোভিড-১৯ উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখায় ই-লার্নিং এর ভূমিকা

শিক্ষা এবং জ্ঞান হলো মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই মহামূল্যবান সম্পদ ভিন্ন কোনো মানুষই জীবনে সম্পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। শিক্ষা শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় কিংবা চার দেওয়ালের বন্ধনীতে আবদ্ধ নয়। শিক্ষার প্রকৃত রূপ হল ব্যাপক। কিন্তু সাবেকি শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার এই ব্যাপক রূপের উন্মেষ ঘটতে পারে না।

সেই কারণেই আধুনিক যুগের সূচনা কাল থেকে বিভিন্ন শিক্ষাবিদরা শিক্ষার পাঠ্যক্রমগত এবং পদ্ধতিগত উন্নয়নের কথা বলেছেন। সেই সঙ্গে আরও জোরদার হয়েছে সমাজের সর্বস্তরে শিক্ষার ব্যাপক প্রসার এর প্রয়োজনীয়তার দাবী। এমতাবস্থায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার রঙ্গমঞ্চে আবির্ভাব ঘটেছে ই লার্নিং পদ্ধতির।

এই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে অভিনব উপায়ে সৃজনশীল পদ্ধতির দ্বারা পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে অন্য যেকোন প্রান্তে বিশ্বমানের শিক্ষার প্রচার ও প্রসার সম্ভব। এই ধরনের শিক্ষার মাধ্যমে একদিকে শিক্ষার্থীদের সৃজনমূলক প্রতিভার যেমন বিকাশ ঘটে, আবার অন্যদিকে শিক্ষার পথে সকল বাধাকে অতিক্রম করে অত্যন্ত সহজে যেকোনো জায়গায়, যে কোন সময়ে, যেকোনো মানুষের কাছে শিক্ষাকে পৌঁছে দেওয়া যায়। সেকারণে একবিংশ শতকে শিক্ষার প্রচার এবং প্রসারের আধুনিকতম মাধ্যম হিসেবে সংযোজিত হয়েছে ই লার্নিং পদ্ধতি।

পৃথিবীর ইতিহাসে ২০২০ একটি চিরস্মরণীয় বছর হয়ে থাকবে। এই বছর করোনা নামক এক ভয়ঙ্কর ভাইরাসের থাবা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের। সেজন্যেই বিশ্বব্যাপী ঘোষিত হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন।
সামাজিক দূরত্ববিধি না মেনে এই ভাইরাসঘটিত রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার আপাতত আর কোন উপায় নেই। পৃথিবীজুড়ে সমস্ত প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই সময় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ খানিকটা কমলেও

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে আবার আগের মতন করে চালানোর ঝুঁকি নেওয়া যায় নি। কারণ এই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি পূর্বের মতন চালু থাকলে শারীরিক দূরত্ববিধি বজায় রাখা আদৌ সম্ভবপর হবে না। আর ছাত্র-ছাত্রীরা হল পৃথিবীর ভবিষ্যৎ।

 

এই মারণ ভাইরাসের প্রকোপকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে পুনরায় ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাভাবিক শ্রেণী কার্যক্রম চালু রাখার ঝুঁকি নেওয়ার অর্থ হলো ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্য তথা ভবিষ্যতকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া। সে কারণে এমতাবস্থায় স্বাভাবিক শ্রেণী কার্যক্রম পুনর্বহাল করার মতন ঝুঁকি নেওয়া একেবারেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি বন্ধ হয়ে স্বাভাবিক শ্রেণী কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য অস্থায়ীভাবে স্তব্ধ হয়ে গেলেও শিক্ষার প্রচার এবং প্রসারকে থেমে থাকতে দেওয়া যায় না। এইরকম সময়েই ঘরে ঘরে বিশ্বমানের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উঠে এসেছে ই-লার্নিং এর ধারণা। তবে ই লার্নিং এর এই ধারণা পুরোপুরি মহামারী পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত ফল নয়।

এই মহামারীর বহু আগে থেকেই দূরবর্তী শিক্ষা, মুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা, সৃজনমূলক শিক্ষা তথা শ্রেণী কার্যক্রমের সমান্তরাল কোচিং ক্লাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ই-লার্নিং এর ব্যবহার প্রচলিত ছিল। এই মহামারীর কালে ই লার্নিং এর প্রয়োজনীয়তার ব্যাপকতা অনুভূত হয়েছে মাত্র। যে ই-লার্নিং এতদিন অত্যন্ত সামান্য কিছু ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা আজ বহুমুখী রূপ লাভ করেছে।

আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগান্তকারী ফসল ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে একসাথে সামাজিকভাবে সমবেত না হয়েও অনলাইনের মাধ্যমে পাঠ্যক্রম চালু রাখার নামই হলো ই লার্নিং। মহামারীর সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই অধিকাংশ বিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলি পাঠ্যক্রম চালু রাখার বিকল্প উপায় হিসেবে ই লার্নিং পদ্ধতিকে বেছে নিয়েছে।

আমার বিদ্যালয়ও অনলাইন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস সম্পাদিত হচ্ছে। ফলে, অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যায় আমরাও ই-লার্নিং এর সাথে যুক্ত হচ্ছি।

বর্তমানে ই-লার্নিং বা ইলেকট্রনিক লার্নিং ব্যবস্থার ব্যাপক প্রসারের ফলে শিক্ষার্থীদের সুবিধার দিকটি বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে। ই-লার্নিং পদ্ধতিতে যেকোনো স্থানে বসে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে পাঠ গ্রহণ করা যাচ্ছে। এই পদ্ধতিতে একজন দক্ষ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে কোন বিষয়কে অডিওভিজুয়াল-এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে পারেন।

একসাথে সামাজিকভাবে সমবেত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা না থাকায় বয়সও শিক্ষা গ্রহণের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না।

ই-লার্নিং পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণ করবার খরচ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রায় সকল শিক্ষার্থীদের পক্ষে এই পদ্ধতিকে প্রয়োগ করে শিক্ষাবিস্তার সম্ভব হচ্ছে।

বর্তমানে শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করা যা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ-এর পথকে প্রশস্ত ও মসৃণ করবে।

ই লার্নিং পদ্ধতির প্রয়োগের প্রথম দিকে মনে করা হতো শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মুখোমুখি মিথস্ক্রিয়া না হওয়ার দরুণ

এই পদ্ধতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব নয়।

তবে এই ব্যবস্থা যত প্রসারিত হয়েছে ততই ই লার্নিং সম্বন্ধে ভুল ধারণা মানুষের মন থেকে অপসারিত হয়েছে।

বর্তমানে প্রমাণ হয়ে গেছে মুখোমুখি মিথস্ক্রিয়ার না হওয়া সত্ত্বেও ই লার্নিং পদ্ধতিতে অডিও-ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রথাগত শিক্ষা পদ্ধতির থেকে আরো ভালো ভাবে কোন বিষয়কে উপস্থাপন করা যায়।

ফলে ই লার্নিং পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো ব্যক্তির কাঙ্খিত দক্ষতা অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

বরং সুবিধা অনুযায়ী রেকর্ডেড ক্লাস, শিক্ষাগত উপাদান-এর সহজলভ্যতা, শিক্ষার বহুমুখী রূপের প্রসার ইত্যাদির দ্বারা

এই পদ্ধতিতে মানুষের ব্যক্তিগত দক্ষতায় পূর্বের তুলনায় আরও বেশি বৃদ্ধি ঘটানো যায়।

ই লার্নিং পদ্ধতিকে এই করোনা মহামারী কালে বিশেষভাবে ব্যবহার করা হলেও এই পদ্ধতি স্বাভাবিক সময়েও

শিক্ষার প্রসারে এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভাবে ফলপ্রসূ হতে পারে।

এই পদ্ধতিকে ব্যবহার করে তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলি স্বল্প খরচে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলেও শিক্ষার বিকাশ ঘটাতে পারে।

তাছাড়া এই পদ্ধতি অবলম্বন করে শিক্ষাগত বিষয়বস্তুর আকর্ষণীয় উপস্থাপনা শিক্ষার্থীদের কাছেও কোন কঠিন বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপিত করতে সাহায্য করছে।

এছাড়া উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ই-লার্নিং পদ্ধতিকে প্রয়োগ করে দূরবর্তী স্থানে বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদান করতে পারে।

বর্তমানকালে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগের ব্যাপক প্রসার ভবিষ্যতে ই লার্নিং পদ্ধতির সম্ভাবনাময় বিস্তারের ইঙ্গিতই বহন করে।

ই-লার্নিং বা ইলেকট্রনিক লার্নিং পদ্ধতি হলো ভবিষ্যতের জন্য অনন্ত সম্ভাবনাময় একটি শিক্ষা ব্যবস্থা।

একথা সত্য যে এই ব্যবস্থাকে বাস্তবায়নের পথে অসংখ্য বাধা এবং বিপত্তি রয়েছে এবং আরো উদ্ভূত হবে।

কিন্তু সেই বাধা-বিপত্তিগুলিকে দূর করে ই-লার্নিং-এর চূড়ান্ত সুবিধাগত দিকগুলি সকলের মধ্যে প্রসারিত হলে

তবেই সমাজ শিক্ষা বিস্তারের সার্থক আলোয় আলোকিত হবে।

প্রতিবেদকের নাম : ইরফান

প্রতিবেদনের ধরন : প্রাতিষ্ঠানিক

প্রতিবেদনের শিরোনাম : বর্তমানে কোভিড-১৯ উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখায় ই-লার্নিং এর ভূমিকা।

প্রতিবেদন তৈরির স্থান : বখ্শগঞ্জ

তারিখ : ০৬.০৬.২০২১ ইং

Class 9 ICT 6th Week Assignment Answer

Class 9 Assignment

6th Week Assignment

Changed status to publish
Add a Comment
Write your answer.