0

অভাগীর স্বর্গ গল্পে মানবিক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধকতাসমূহ

অভাগীর স্বর্গ গল্পের মানবিক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূর করার উপায়

মানবিকতা বলতে বোঝায় মানুষের মূল্যবোধ। মানুষের বিচার বুদ্ধি- যে বুদ্ধি আমরা অর্জন করি বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানের মাধ্যমে। যেমন- ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইত্যাদি। মানবিকতার মূলমন্ত্র হলো মানুষের কল্যাণ, জাতির কল্যাণ, সমাজের কল্যাণ।

মোটকথা মানুষের ভালো, মানুষের জন্য ভালো কিছু করা , মানুষের উন্নতি সাধন করাই মানবিকতা। কিন্তু শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত “অভাগীর স্বর্গ” গল্পে মানবিকতা বলতে আমরা যা বুঝি তার বিন্দুমাত্র মিল খুঁজে পাই নি।

তাইতো মানবিক সমাজ গঠনে ব্যর্থ হয়েছে “অভাগীর স্বর্গ” গল্প । কারণ “অভাগীর স্বর্গ” গল্পে রয়েছে মানবিক সমাজ গঠনের নানবিধ প্রতিবন্ধকতা। যেমনঃ

শ্রেণি বৈষম্যঃ “অভাগীর স্বর্গ”  গল্পে আমরা দেখতে পাই যে, তখনকার সমাজ ব্যবস্থার মাঝে শ্রেণি বৈষম্য ছিল প্রকট। এই শ্রেণি বৈষম্য এর মাঝে ছিল ধনী-গরীব ভেদাভেদ , উঁচু জাত-নিচু জাতের ভেদাভেদ। এই গল্পে আমরা দেখতে পেরেছি সমাজের উচু জাতের লোকদের দ্বারা নিচু জাতের অর্থাৎ গরীব অসহায়দের প্রতি বৈষম্য।

ন্যায়বিচারের অভাব: অভাগীর বেল গাছ লাগানোর ঘটনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, তখনকার সমাজ ব্যবস্থায় কতটা ন্যায়বিচারের অভাব ছিল।

শাসকেকের শোষণঃ “অভাগীর স্বর্গ” গল্পের জমিদার এর চরিত্র থেকে একথা স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে শাসক শ্রেণির লোকদের শোষণ একটি মানবিক সমাজ গঠনের প্রধান অন্তরায় বলে আমি মনে করি।

সামাজিক মর্যাদাঃ একটা মানুষ যখন সমাজে তার নিজ পরিচয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে না পারে অর্থাৎ সামাজিক মর্যাদা নিয়ে দাঁড়াতে না পারে, তখনই সমাজের মাঝে অমানবিক আচার-আচরণ প্রকট হয়ে দেখা দেয়, যা মানবিক সমাজ গঠনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

বিবিধঃ সমাজে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে যেমন পার্থক্য রয়েছে , তেমনি রয়েছে ধর্মে-ধর্মে , সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে এবং জাত-পাতের প্রকট পার্থক্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব পার্থক্য অশিক্ষা, অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও হীন স্বার্থবুদ্ধিপ্রসূত। এতে করে সমাজে প্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। সমাজজীবনে সৃষ্টি হয় নানা দুঃখজনক ঘটনার। এমনকি এতে মানবতার বিপর্যয়ও ঘটে থাকে।

প্রতিবন্ধকতা জয় করার উপায়

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অভাগীর স্বর্গ গল্পের উঠে আসা মানবিক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধকতাসমূহ উত্তরণের জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা যেতে পারে। 

১. যথোপযুক্ত শাসনব্যবস্থাঃ একটি সুন্দর মানবিক সমাজ গঠনে আইনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকরী শাসনব্যবস্থা চালু থাকলে শুধু সমাজ নয় বরং সারা পৃথিবীকে মানবিক করে তোলা সম্ভব।

২. সুষম বিচার ব্যবস্থাঃ যে সমাজে বিচার ব্যবস্থা সুষম অর্থ্যাৎ ন্যয়বিচার রয়েছে, সে সমাজকে আমরা মানবিক বলতে পারি। একটা সমাজে যদি অন্যায় অপরাধের সঠিক বিচার হয় , বিচার ব্যবস্থা যদি পক্ষপাতদুষ্ট না হয়, তখনই কেবল সমাজের বসবাসরত মানুষ যারা রয়েছে , তারা নিজেদেরকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত ভাবতে পারবে। আর তাতেই মানবিক সমাজ গঠনের পথটা সুগম হয়ে যাবে।

৩. শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতাঃ সমাজে যারা শাসক গোষ্ঠী রয়েছে অর্থাৎ যারা সমাজে নীতি নির্ধারক তারা যদি সমাজের মানুষের উপকারে তাদের শাসন করে , তবে সে সমাজ মানবিক হতে বাধ্য। শাসনের নামে যেন শোষণ না হয়। শোষিত মানুষের মাঝে সবসময় ক্ষোভ বিরাজ করে।

৪. ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে স্বাধীনতাঃ আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সমাজে যাতে সবাই নিজের মত করে বাঁচতে পারে, নিজস্ব ধর্মীয় আচার আচরণ পালন করতে পারে, নিজের মতামত স্পষ্ট করে প্রকাশ করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

৫. সামাজিক মূল্যবোধ চর্চাঃ সামাজিক মূল্যবোধ চর্চা করতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে সামাজিক মূল্যবোধকে জাগিয়ে তুলতে হবে।

৬. শ্রেণি বৈষম্য দূরীকরণঃ শ্রেণি বৈষম্য দূরীকরণ করতে হবে। এই ধরণের বৈষম্য অবশ্যই দূর করতে হবে, যদি আমরা একটি মানবিক সমাজ গঠন করতে চাই।

উপসংহারঃ উপরোক্ত বিষয় সমুহ যতগুলো গুণ যথোপযুক্ত প্রয়োগের মাধ্যমে মানবিক সমাজ গঠনে উত্থাপিত সমস্যা গুলো বা প্রতিবন্ধকতাগুলো দূরীকরণে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস। এর মাধ্যমে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা এবং সামাজিকতা বিরাজমান থাকবে। 

বন্ধুরা এই ছিল তোমাদের নবম শ্রেণী চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের নমুনা উত্তর। এখানে অভাগীর স্বর্গ গল্পের উপস্থাপিত মানবিক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায় সমূহ নিয়ে একটি আলোচনা দেওয়া হয়েছে। 

উত্তরদাতা: খাদিজাতুল স্বর্ণা, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ