পল্লিসাহিত্য গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর – নবম ও দশম শ্রেণী

0

পল্লিসাহিত্য (Polli Shahitto) – মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (Muhammad Shahidullah) গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন। নবম ও দশম শ্রেণীর পাঠ্য বই। উত্তর একদম নিচে PDF এ দেওয়া আছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ১: এ লেভেল পরীক্ষা শেষে মিতু মা-বাবার সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। গ্রামে তখন পৌষ মেলা বসেছে। মেলায় মিতু বয়াতির কন্ঠে ‘একটা ছিল সোনার কইন্যা, মেঘবরণ কেশ, ভাটি অঞ্চলে ছিল সেই কইন্যার দেশ’ গানটি শুনে বিমোহিত হয়। সে তার মাকে জিজ্ঞাসা করে- মা এতদিন আমি কেন এই গানগুলো শুনিনি। এ গানগুলো তো বড় আপু খুঁজছে তার থিসিসের জন্য। আমি এবার আপুর জন্য গানগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যাব।

ক. সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস কোনটি?
খ. আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোত বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
গ. মিতুর এ গানগুলো না শোনার কারণটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘উদ্দীপকে মিতুই যেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর চাওয়া পল্লি জননীর মনোযোগী সন্তান’- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

 

সৃজনশীল প্রশ্ন ২: প্রবাসে বসবাস করা মুরসালাত ছুটিতে বাবার সাথে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। তখন বৈশাখ মাস। পাশের গ্রামে বৈশাখী মেলা। মেলায় গান-বাজনাসহ নানান কর্মকা- চলছে। হঠাৎ মেলার এক প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ‘আমায় এত রাতে কেনে ডাক দিলি প্রাণ কোকিলা রে’ গানটি শুনে সে বিমোহিত হয়। বাড়িতে এসে বাবাকে মেলায় শোনা গানের কথা বলে। তারা দু’জনে মিলে পরদিন আবারও মেলায় ছুটে যায় এবং এ ধরনের গানগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। বাংলাদেশের এই লোক-সংস্কৃতিকে সে বিদেশের মাটিতে পরিচয় করিয়ে দিতে চায়।

ক. বাংলা সাহিত্যের কত আনা শহুরে সাহিত্য?
খ. ‘আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোত’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোচিত দিকটির ব্যাখ্যা দাও।
ঘ. উদ্দীপকের মুরসালাতকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিনিধি বলা যায় কি? যুক্তি দিয়ে বিচার কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩: বাংলা সাহিত্যে রয়েছে এক বিশাল ভাণ্ডার। এক শ্রেণির সাহিত্যে ছন্দোবদ্ধ ভাষায় অতীত দিনের কাহিনী কিংবা পৌরাণিক কাহিনীর রস মধুর বর্ণনা পাওয়া যায়। আরেক শ্রেণির সাহিত্য জীবনের খণ্ডাশ নিয়ে গদ্যে রচিত হয়ে এক ভিন্নধর্মী রস ব্যঞ্জনার সৃষ্টি করে। উদ্ভবের দিক থেকেও উভয় শ্রেণির সাহিত্যে রয়েছে বিশাল ব্যবধান।

ক. সাহিত্যের প্রধান ধারা কয়টি?
খ. উপন্যাস বলতে কী বুঝ?
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ছন্দোবদ্ধ ভাষায় রচিত সাহিত্যের পরিচয় দাও।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত উভয় শ্রেণির সাহিত্যের মধ্যকার পার্থক্য আলোচনা কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪: এনজিও কর্মী জলি চাকরির সুবাদে দেশের বিভিনড়ব প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে হয়। বিভিনড়ব শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলতে হয়। একদিন লক্ষ্য করলেন অক্ষর জ্ঞানহীন এক নারী অবলীলায় ছন্দোবদ্ধ কথা বলছেন। অজস্র ছড়া গান তিনি মুখে মুখে কথায় কথায় বানিয়েছেন। জলি সিদ্ধান্ত নেন কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি পল্লির এসব সাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবেন এবং এগুলোর শিল্পীদের আমাদের সাহিত্য আসরে নিয়ে আসবেন।

ক. ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ কে রচনা করেন?
খ. ‘এবার ফিরাও মোরে’ কবি সম্রাটের এ বক্তব্যের মর্মার্থ লেখ।
গ. উদ্দীপকের অক্ষরজ্ঞানহীন নারীর মাধ্যমে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘উদ্দীপকের জলি যেন ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখকের কাঙ্খিত প্রতিনিধি’ – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৫: রসুলপুর গ্রামের জমির উদ্দিন একজন অতি সাধারণ মানুষ। দোতারা হাতে গ্রামে গ্রামে গান গেয়ে বেড়ায়। সবাই মুগ্ধ হয়ে তার গান শোনে। এসব গানে কত প্রেম, কত সৌন্দর্য আর কত তত্ত্বজ্ঞান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এগুলো আমাদের অমূল্য রতড়ববিশেষ হলেও তা আজ বিলুপ্তির পথে। পল্লিসাহিত্যের এসব উপাদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব আমাদের সকলের।

ক. আজকাল বাংলা সাহিত্যের কত আনা শহুরে সাহিত্য?
খ. Folklore Society – এর কাজ কী? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা বর্ণনা কর।
ঘ. “উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের মূল কথাকে প্রতীকায়িত করতে সক্ষম হয়েছে” উক্তিটির যথার্থত্যা বিচার কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৬: মিসেস রহিমা একজন শিক্ষিত মা। তিনি মনে করেন ছেলেকে বাংলার গল্প শোনানোর চেয়ে বিদেশি সাহিত্যের গল্প শুনলেই বেশি উপকৃত হবে। ছেলেকে দেশি সংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে পারাতেই রহীমা বেগম বেশী গর্ববোধ করছেন। প্রকৃত অর্থে, এটা কোন গর্ব করার বিষয় নয়। বরং নিজ ঐতিহ্যের সঙ্গে এ ব্যবধান এক সময় অস্তিত্বের সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে।

ক. ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ সম্পাদনা করেন কে?
খ. ‘আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোত’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. মিসেস রহিমার চরিত্রে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্থের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে – ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের শিক্ষা কতটুকু যৌক্তিক – ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৭: করিম সাহেব আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা উংরেজি, হিন্দি গান ও সিনেমার প্রতি আকৃষ্ট। তার ধারণা পাশ্চাত্য সাহিত্য-সংস্কৃতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে বেশি দূর আগানো যাবে না। অন্যদিকে তার বন্ধু সালাম সাহেব উচ্চ শিক্ষিত হওয়া সত্তেও দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি হৃদয়ে লালন করেন। পল্লিগীতি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, লালনগীতি তাঁর প্রিয় গান। ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে মৈয়মনসিংহ গীতিকা, পুঁথি ও রূপকথার গল্পসহ

বাংলা ভাষায় বিভিন্ন বই সংগ্রহ করেছেন।
ক. প্রবাদ বাক্য কাকে বলে?
খ. পল্লিসাহিত্যের সংক্ষরণ করা প্রয়োজন কেন?
গ. উদ্দীপকের করিম সাহেবের মানসিকতায় ‘পল্লীসাহিত্য’ কোন মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “সালাম সাহেবের মনোভাব যেন ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখকের চাওয়ারই প্রতিফলন।” – উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৮: সাহিত্যের এই শাখাটি আধুনিক কালের সৃষ্টি। এর বয়স চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছর হবে। এটি গদ্যে লিখিত। আকারে বেশি বড় নয়। এতে কোনো না কোনো কাহিনির বর্ণনা থাকবে, তবে তা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নয়। কাহিনির ভিতর থেকেই বেছে নেওয়া কোনো অংশ থাকে মাত্র।

ক. নীলদর্পণ কোন ধরনের নাটকের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ?
খ. ট্র্যাজেডি বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকের বক্তব্যে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের যে শাখার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তার বিবরণ দাও।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত দিকটিই গদ্য সাহিত্যের একমাত্র দিক নয় – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৯: যুক্তরাষ্ট্র চীন বাণিজ্যযুদ্ধে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমবে বিশ্বের। এ যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি আরও দরিদ্র ও বিপজ্জক হয়ে উঠবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আই এম.এফ)। ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্ব অর্থনীতিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে শূন্য দশমিক আশি শতাংশ।

ক. মহাকাব্য কোন কাহিনি অবলম্বনে রচিত হয়?
খ. নাটককে দৃশ্যকাব্য বলা হয় কেন?
গ. উদ্দীপকটির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে প্রবন্ধ সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য তুলনা কর।
ঘ. খবরের কাগজে প্রকাশিত সংবাদ গদ্যে বর্ণিত হলেও বেশির ক্ষেত্রে তা প্রবদ্ধ সাহিত্যের অন্তর্গত নয়।”- সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের আলোকে বিচার কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন ১০:
(১) যেমন বুনো ওল
তেমনি বাঘা তেঁতুল।
(২) জ্যৈষ্ঠে খরা, আষাঢ়ে ভরা
শস্যের ভার সহে না ধরা।

ক. ‘Proletariat” সাহিত্য কী?
খ. প্রাবন্ধিক ‘চশমা আটা চোখ’ বলতে কাদেরকে বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে তা বর্ণনা কর।
ঘ. “উদ্দীপকের বর্ণিত উপাদান ছাড়াও পল্লিসাহিত্যের আরো অনেক উপাদান রয়েছে” পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন ১১:
তবে তুমি বুঝি বাঙালি জাতির বীজমন্ত্রটি শোন নাই
‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।’
একসাথে আছি, একসাথে বাঁচি, আজও একসাথে থাকবই
সব বিভেদের রেখা মুছে দিয়ে সাম্যের ছবি আঁকবই।

ক. গোয়েবলস্ কে?
খ. এভাবে দ্বিধাদ্বন্দ্বে কেটেছে দু’দিন দু’রাত – কেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ রচনার চেতনার সাদৃশ্য উপস্থাপন কর।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘একাত্তরের দিনগুলি’ রচনার সমগ্র ভাবকে ধারণ করেছেন কি? তোমার মতামত ব্যক্ত কর।

সকল প্রশ্নের উত্তর দেখুন

পল্লিসাহিত্য গল্পের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১। প্রত্নতাত্ত্বিক অর্থ কী?

উত্তর: প্রত্নতাত্ত্বিক অর্থ পুরাতত্ত্ববিদ।

প্রশ্ন ২। খনা কে?

উত্তর: খনা হলেন একজন জ্যোতিষী।

প্রশ্ন ৩। ‘পল্লিসাহিত্য’ কী জাতীয় রচনা?

উত্তর: ‘পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধ জাতীয় রচনা ।

প্রশ্ন ৪। খনার বচন কী?

উত্তর: প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত নারী জ্যোতিষী খনার উপদেশমূলক বাণী বা কথাগুলােই খনার বচন নাম পরিচিত।

প্রশ্ন ৫। রােমাঁ রােলাঁ কার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিল?

উত্তর: রােমাঁ রােলাঁ মদিনা বিবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিল ।

প্রশ্ন ৬। আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতে কী হারিয়ে যাচ্ছে?

উত্তর: আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতে পল্লির উপকথাগুলাে হারিয়ে যাচ্ছে।

প্রশ্ন ৭। দেওয়ান মদিনার রচয়িতা কে?

উত্তর: দেওয়ান মদিনা’র রচয়িতা হলেন মনসুর বয়াতি।

প্রশ্ন ৮। ভাটিয়ালি গান কী?

উত্তর: বাংলার পল্লিগীতির একটি বিশিষ্ট ধারার নাম ভাটিয়ালি।

প্রশ্ন ৯। আজ আমাদের কোনটি দরকার?

উত্তর: শহুরে সাহিত্যের বালাখানার পাশে গেঁয়াে সাহিত্যের জোড়াবাংলা ঘর তােলা।

প্রশ্ন ১০। নৃতত্ত্ব কী?

উত্তর: মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত বিজ্ঞান ।

প্রশ্ন ১১। মদিনা বিবি কে?

উত্তর: মদিনা বিবি ‘দেওয়ানা-মদিনা’ লােকগাথার নায়িকা ।

প্রশ্ন ১২। পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধে লেখকের মতে শহুরে সাহিত্য কয় আনা?

উত্তর: ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখকের মতে শহুরে সাহিত্য পনেরাে আনা।

প্রশ্ন ১৩। লােকমুখে প্রচলিত ও বিশ্বাসযােগ্য বাক্যকে কী বলে?

উত্তর: লােকমুখে প্রচলিত ও বিশ্বাসযােগ্য বাক্যকে বলে প্রবাদবাক্য।

প্রশ্ন ১৪। পল্লির পরতে পরতে কী ছড়িয়ে আছে?

উত্তর: পল্লির পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে।

প্রশ্ন ১৫। শহুরে বা নাগরিক সাহিত্য বলতে কী বােঝ?

উত্তর: শহর বা নগরের মানুষের জীবন নিয়ে রচিত সাহিত্যকে।নাগরিক সাহিত্য বলে।

প্রশ্ন ১৬। ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে সবার সম্পত্তি কোনটি?

উত্তর: ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে সবার সম্পত্তি হচ্ছে পল্লিসাহিত্যের বিভিন্ন উপাদান।

প্রশ্ন ১৭। কিসের কঙ্কালবিশেষ এখনও অবশিষ্ট আছে?

উত্তর: পল্লিসাহিত্যের কঙ্কালবিশেষ এখনও অবশিষ্ট আছে।

পল্লিসাহিত্য গল্পের অনুধাবন মূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। প্রবাদ-প্রবচন বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: প্রবাদ-প্রবচন বলতে জীবন ও জগৎ সম্বন্ধে প্রয়ােজনীয় কোনাে অভিজ্ঞতা হৃদয়গ্রাহী ভাষারূপ লাভ করাকে বােঝায়।

‘প্রবচন’ মানে প্রকৃষ্ট যে বচন। সংক্ষেপে ও সুন্দরভাবে অনেক ক্ষেত্রে ছন্দমিল কিংবা উপমা প্রভৃতি ব্যবহার করে, প্রবাদে সমাজের বাংলা কোনাে মূল্যবান অভিজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। আমাদের দৈনন্দিন কথাবার্তায় প্রবাদ-প্রবচনগুলাে অলংকারের কাজ করে। এতে বাক্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। যেমন- ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই’; ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’ ইত্যাদি। প্রবাদ-প্রবচনের মাধ্যমে অতীতের নানাবিষয়, পরিপ্রেক্ষিতে এগুলাের প্রয়ােগ থেকে বাস্তব জীবনের শিক্ষা লাভ হয়।

প্রশ্ন ২। “আজ দুঃখে দৈন্যে প্রাণে সুখ নেই।” কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: “আজ দুঃখে দৈন্যে প্রাণে সুখ নেই।” এ উক্তিটি দ্বারা আমাদের পল্লিসাহিত্যের বর্তমান দৈন্যদশার কথা প্রকাশ করা হয়েছে।

এখানে আমাদের উদাসীনতা ও পারিপার্শ্বিকতার দুরাচারে পল্লিসাহিত্য আজ যে বিপন্ন তাই বােঝানাে হয়েছে। বাংলা পল্পির প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে। অথচ আমাদের সচেতন সাহিত্য সমাজ পল্লির অমূল্য সেসব সাহিত্যের কদর করছে না। নব্য শহুরে সাহিত্যের প্রতি তারা বেশি অনুরাগী হয়ে উঠেছে। যারা পল্লির এসব সাহিত্য তৈরি ও চর্চা করত তারাও আজ দুঃখ-দৈন্যে আক্রান্ত। আমাদের মনে সুখের পরশ নেই।

প্রশ্ন ৩। “পল্লিগ্রামে শহরের মতাে গায়ক, বাদক, নর্তক না থাকলেও প্রশ্ন তার অভাব নেই”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: “পল্পিগ্রামে শহরের মতাে গায়ক, বাদক, নর্তক না থাকলেও তার অভাব নেই”- উক্তিটি দ্বারা এটিই বােঝানাে হয়েছে যে, শহরে গায়ক, বাদক আর নর্তকের মতাে গ্রামের প্রকৃতির মধ্যেও নানা উপাদান বিদ্যমান।

পল্লি মানেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবাধ ছড়াছড়ি। গ্রামের শ্যামল-কোমল সবুজরাজির মিলনে, নদীর কুলকুল শব্দে, পাখির নিরন্তর । কলকাকলিতে, পাতার মর্মর ধ্বনিতে, ফসলের মাঠে বাতাস বয়ে যাওয়ার সুরে এক মায়াময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শহরের তীব্র কোলাহলের মাঝে গায়ক-নর্তকদের শিল্পধ্বনি ম্রিয়মাণ। পল্লির পরতে পরতে শিল্পের হর্ষধ্বনি, প্রতিনিয়ত স্বতঃস্ফূর্ত। পল্লিতে কবিয়াল, গায়ক, বাদকের অভাব নেই। আলােচ্য লাইন দ্বারা লেখক সেটিই নির্দেশ করেছেন।

প্রশ্ন ৪। আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: আরব্য উপন্যাসের সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক গল্প ‘আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ’।

এই গল্পটির ঘটনাস্থল চীনদেশ। এক গরিব দুঃখিনী মায়ের একমাত্র ছেলে আলাউদ্দিন। সে এক চতুর জাদুকরের বিস্ময়কর প্রদীপ লাভ করে। এ প্রদীপে ঘষা দিলেই এক মহাশক্তিধর দৈত্য এসে হাজির হয়। আর আলাউদ্দিনের আদেশ অনুযায়ী অলৌকিক সব কাজ সে মুহূর্তেই করে দেয়। এভাবে সেই প্রদীপের বদৌলতে আলাউদ্দিন প্রচুর ধনসম্পদ ও বিশাল এক রাজপ্রাসাদের অধিকারী হয়। তখন তার মায়ের দুঃখও দূর হয়।

প্রশ্ন ৫। প্রবাদবাক্য আমাদের জীবনে কীভাবে জড়িয়ে আছে?

উত্তর: প্রবাদবাক্য আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ওতপ্রােতভাবে জড়িয়ে আছে।

পল্লিসাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রবাদবাক্য যুগ যুগ ধরে । মানুষ প্রাত্যহিক জীবনের কথাবার্তায় প্রবাদবাক্য ব্যবহার করে আসছে। প্রবাদবাক্য আমাদের বাটুতা ও চিকর্ষের দীপ্তিকে প্রকাশ করে। শুধু কথার মধ্যেই প্রবাদের ব্যবহার সীমাবদ্ধ নয়। সাহিত্যের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কথাসাহিত্যের শৈল্পিক উপস্থাপনায় প্রবাদ-প্রবচন একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ।

প্রশ্ন ৬। Proletariat সাহিত্য বলতে কী বােঝ?

উত্তর: Proletariat সাহিত্য হচ্ছে অত্যাচারিত শ্রমজীবী দুঃখী মানুষের সাহিত্য।

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ তার ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে অভিনব ভাব বিন্যাসের মধ্য দিয়ে পল্লিসাহিত্যের বিশিষ্ট দিকগুলাে উপস্থাপন করেছেন। এখানে তিনি Proletariat সাহিত্যের কথা বলেছেন। যে সাহিত্যের আত্মা ইট-পাথরের ও লােহার কৃত্রিম বাঁধন থেকে মুক্ত। যে সাহিত্য মাটির ঘরে, মাটির মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসিকান্না, আনন্দ-বেদনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রচিত, তাকেই তিনি Proletariat সাহিত্য বলেছেন। এ ধরনের সাহিত্যে শ্রমজীবী শ্রেণির দুঃখ-বেদনার কথা প্রতিফলিত হয়।

প্রশ্ন ৭। ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখকের অন্তর্বেদনার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখকের অন্তর্বেদনার কারণ শহরে পল্লিসাহিত্যের বিলুপ্তি ।

নানা লেখকের মতে, এদেশে একদিন পল্লিসাহিত্যের সন্ডার ছিল । উপযুক্ত গবেষক ও আগ্রহী সাহিত্যিকদের উদ্যোগের অভাবে শ্যামল- সেগুলাে সংগৃহীত না হওয়ায় আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। ফলে নিরন্তর আমরা বঞ্চিত হচ্ছি পল্লির মূল্যবান প্রাচীন সম্পদ থেকে। এটিই লেখকের অন্তর্বেদনার মূল কারণ।

প্রশ্ন ৮। পল্লিসাহিত্যে উল্লিখিত ‘পিয়ে বসে পেঁড়াের খবর’ পল্লির প্রবাদটি প্রাচীন ইতিহাসের কোন গােপন কথা স্মরণ করিয়ে দেয়?

উত্তর: পিঁড়েয় বসে পেঁড়াের খবর’ প্রবাদটি অতীত ইতিহাসের দ্বারা একটি বিশেষ সময়কে স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রবাদ হলাে দীর্ঘদিন ধরে লােকমুখে প্রচলিত বিশ্বাসযােগ্য কথা বা জনশ্রুতি। জীবন ও জগৎ সম্বন্ধে কোনাে প্রয়ােজনীয় অভিজ্ঞতা যখন হৃদয়গ্রাহী ভাষারূপ লাভ করে লােকসাধারণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা পায়, সেই ভাষারূপকে বলে প্রবাদ-প্রবচন। ‘পিঁড়েয় বসে পেঁড়াের খবর’ একটি প্রাচীন প্রবাদ। এ প্রবাদটি প্রাচীন ইতিহাসের সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, এই প্রবাদ যখন প্রচলিত হয় তখন পাণ্ডুয়া ছিল বঙ্গের রাজধানী।

প্রশ্ন ৯। পল্লিসাহিত্যের উপকরণের দৃষ্টান্ত দাও।

উত্তর: পল্লিসাহিত্যের উপকরণ প্রধানত পল্লির মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত বিষয় ও অনুভূতি।

গ্রামীণ নর-নারীর অনুভূতিই পল্লিসাহিত্যের মূল উপকরণ। তাই পল্লিবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তালতমাল, আঁকাবাঁকা নদ-নদী, পল্লির মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার কথা, আনন্দ-বেদনার কথা, মান-অভিমানের কথা, রাখাল-কৃষকের কথা, তাদের প্রেম-বিরহের কথা প্রভৃতি পল্লিসাহিত্যের প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন ১০। নাগরিক সাহিত্যের উপাদানের দৃষ্টান্ত দাও।

উত্তর: নাগরিক সাহিত্যের উপাদান প্রধানত শহুরে মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত বিষয় ও অনুভূতি।

আজকাল বাংলা সাহিত্য বুলে যে সাহিত্য চলছে তার পনেরাে আনাই শহুরে সাহিত্য বা নাগরিক সাহিত্য। অভিজাত শ্রেণির লােকদের নিয়ে নাগরিক সাহিত্য গড়ে উঠেছে। নাগরিক সাহিত্যের উপাদানগুলাের মধ্যে রয়েছে রাজ-রাজড়ার কথা, বাবু-বিবির কথা, মােটরগাড়ির কথা, সিনেমা-থিয়েটারের কথা, বিজলি বাতির কথা ইত্যাদি।

প্রশ্ন ১১। পল্পিসাহিত্যে হিন্দু-মুসলমান ভেদ নেই কেন?

উত্তর: সর্বজনীনতা পল্লিসাহিত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হওয়ায় হিন্দু-মুসলমান বলে কোনাে ভেদ নেই।

হিন্দু-মুসলমান শুধু নয়, জাতি-ধর্ম-গােষ্ঠী বলে কোনাে ভেদজ্ঞানই পল্লিসাহিত্যে স্বীকৃত নয়। এর মূল কারণ হচ্ছে পল্লিসাহিত্যে রয়েছে সকল মনের প্রভাব। এ সাহিত্য কোনাে ব্যক্তি বা গােষ্ঠীর সৃষ্টি যেমন নয়, তেমনি গােষ্ঠীবিশেষের সম্পদ হিসেবে গৃহীতও হয় না। এতে ধর্ম প্রাধান্য পায়নি। মানুষের মনের সামগ্রিক ছবিই এখানে প্রাধান্য পেয়েছে।

Asif Changed status to publish June 29, 2022
Add a Comment
Write your answer.